মোহাম্মাদ বিন সালমান প্রাণ বাঁচাতে আজ এই প্রাসাদে, কাল ওই প্রাসাদে থাকছেন। মাঝে মাঝে বাংকারে লুকাচ্ছেন। কখন কোথায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হবে তার কোনো ঠিক নেই। সময়টা তাঁর মোটেও ভালো যাচ্ছে না।
৯ আগস্ট সৌদি আরবের বন্দরনগর জিজানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর তেল শোধনাগারে ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দিয়ে শুরু। এরপর থেকে একের পর এক হামলা হচ্ছে।
আমেরিকার অতি ঘনিষ্ঠ সৌদি আরব অনেক আগে থেকেই তেল বিক্রির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে তাদের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
গত বছরের ১৩ মে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি সফরের সময় আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি হয়েছে। শুধু ওই চুক্তির আওতায় মোহাম্মদ বিন সালমান আমেরিকার কাছ থেকে ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছেন।
এত অস্ত্রপাতি কেনার পরও সৌদি আরবে যেভাবে তেলের খনি ও বিমানবন্দরের মতো সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গায় হামলা হচ্ছে, তা দেখে মোহাম্মদ বিন সালমানের বারবার প্রাসাদ বদল করে বম্বপ্রুফ বাংকারে ঢোকারই কথা।
অবাক করা কথা হলো, যাদের হামলার মুখে আজ সৌদির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার এই বাজে দশা, যাদের কারণে বাব আল–মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদির তেলের ট্যাংকারগুলো যেতে পারছে না, ইয়েমেনের সেই হুতি বিদ্রোহীদের নাম বছর বিশেক আগেও তেমন কেউ শোনেনি।
দুনিয়ার সবাই দেখেছে, এক দশক আগে হুতিদের দমন করতে গিয়ে সৌদি আরব ও তাদের মিত্ররা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে নির্বিচারে বোমা ফেলেছে।
খাবার ও পানি বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিয়েছে। কলেরায় সাড়ে চার লাখের বেশি শিশু মারা গেছে। গৃহযুদ্ধে ১১ হাজারের বেশি শিশু নিহত বা পঙ্গু হয়েছে।
তাদের কাছে ওষুধ পৌঁছানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি। এভাবে ইয়েমেনের একটি বিশাল অংশকে অনেকটা গাজার মতো আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
তারপরও হুতিরা শেষ হয়ে যায়নি। উল্টো তারা এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে সৌদি আরবে পাল্টাহামলা চালিয়ে তাদের আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।


