প্রচ্ছদ/বিসিএস ও সাধারণ জ্ঞান/বিসিএস প্রিলি ও লিখিত: রাষ্ট্র সংস্কার
বিসিএস ও সাধারণ জ্ঞানলক্ষ্য: বিসিএস প্রিলি ও লিখিত: রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম কেন

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বয়স ছয় দশকের বেশি, যার শুরুটা ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাধ্যমে হয়েছিল। তখন সাংবাদিকদের প্রধান কর্মক্ষেত্রই ছিল সংব...

প
প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়)•২ নভে, ২০২৬•বিস্তারিত প্রতিবেদন
৩ মিনিট পাঠ

শিক্ষণীয় মূল বিষয়বস্তু (Exam Key Takeaways)

  • মূল সারসংক্ষেপ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম কেন। এর মূল চিত্র হলো— বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বয়স ছয় দশকের বেশি, যার শুরুটা ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাধ্যমে হয়েছিল।
  • প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ: কারণ, একজন শিক্ষার্থী যখন কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করছেন, তখন বিষয়টির সঙ্গে সম্ভাব্য পেশার সম্পর্কটি তাঁর কাছে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
  • শিক্ষণীয় অন্তর্দৃষ্টি: সমসাময়িক ঘটনাবলি ও বিশ্লেষণধর্মী মতামত রচনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিবেদনটি সমৃদ্ধ রেফারেন্স হিসেবে উপযোগী।

বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা তথ্য ছক (Exam Fact Sheet)

হাই-ইল্ড ডেটা

প্রিলিমিনারি নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত রচনায় কোটেশনযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান

ক্ষেত্র / সূচকসুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যানপরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা / প্রধান পক্ষকর্তৃপক্ষ ও মূল পক্ষ
বেসরকারি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজন
সংবিধিবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার, সুশাসন ও নির্বাহী কর্তৃত্ব
সুনির্দিষ্ট উপাত্ত / মূল সিদ্ধান্তউপাত্ত ও প্রধান সিদ্ধান্ত
তখন সাংবাদিকদের প্রধান কর্মক্ষেত্রই ছিল সংবাদপত্র
সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ ও নীতিগত সিদ্ধান্তের তথ্য
কার্যকর সময়কাল / আইনি ভিত্তিআইনি ভিত্তি ও পটভূমি
চলতি অর্থবছর ও সমসাময়িক পরিক্রমা
সরকারি নীতি কার্যকর ও জাতীয় বাস্তবায়ন সময়রেখা
বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কোণবিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা কোণ
বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও রচনায় কোটেশনযোগ্য ডেটা
বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও ইংরেজি essay রচনায় তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন: বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কিংবা ইংরেজি রচনায় (Essay) এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রতিষ্ঠান ও সাল ভূমিকা বা উপসংহারে উদ্ধৃতি (Quotation) হিসেবে জুড়ে দিলে খাতায় উচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
খবরাখবর বিশেষ একাডেমিক ফ্যাক্টশিট ও পরীক্ষা প্রস্তুতি সংকলন
সংবাদপত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম কেন
উৎস: প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়) • বিভাগ: বিসিএস ও সাধারণ জ্ঞান

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বয়স ছয় দশকের বেশি, যার শুরুটা ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাধ্যমে হয়েছিল। তখন সাংবাদিকদের প্রধান কর্মক্ষেত্রই ছিল সংবাদপত্র। পরে রেডিও ও টেলিভিশনের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজের পরিধিও বাড়ে। স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ চালু হয়। নব্বইয়ের দশকে এসে এই শিক্ষা পাবলিকের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও।

মিডিয়া খাতের পরিধি এভাবে বাড়লেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা, মিডিয়া স্টাডিজ, গণযোগাযোগ, যোগাযোগ বা চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যে পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার জন্য কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়, তাঁরা সন্তানের পেশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ করেন। সাংবাদিকতা বা মিডিয়া পড়ে ভবিষ্যতে কী করা যাবে, আয় কেমন হবে, চাকরির নিশ্চয়তা কতটা—এসব প্রশ্ন তাদের ভাবায়। এই বাস্তবতা বুঝতে হলে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাস এবং পরিবর্তিত গণমাধ্যমের দিকে একসঙ্গে তাকাতে হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা—

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অধ্যায়—

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ শিক্ষার নতুন পর্ব শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ৫০ ইয়ার্স অব জার্নালিজম স্টাডিজ ইন বাংলাদেশ সংকলনে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভস, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশসহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ-সংক্রান্ত বিভাগ বিস্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকতা থেকে গণমাধ্যম—

নতুন প্রজন্মের একটি উদাহরণ—

সাম্প্রতিক সময়ে এই পরিবর্তনের আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়টি অফিশিয়ালি ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সূচনা করে। বিভাগের পাঠ্যক্রমে সাংবাদিকতার প্রচলিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি গ্রাফিক সাংবাদিকতা, রেডিও সাংবাদিকতা ও পডকাস্ট, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, সামাজিক ও ডিজিটাল যোগাযোগ, যোগাযোগ গবেষণা এবং গণমাধ্যমের ব্যবসা পরিকল্পনার মতো বিষয় রয়েছে। চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিষয়ও রয়েছে।

এ ধরনের পাঠ্যক্রম থেকে বোঝা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রজন্মের মিডিয়া শিক্ষা বিভাগগুলো সাংবাদিকতাকে শুধু সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের পেশা হিসেবে দেখছে না। বরং সাংবাদিকতা, যোগাযোগ, ডিজিটাল মাধ্যম, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমের ব্যবসাকে একই বৃহত্তর পরিসরের মধ্যে দেখার চেষ্টা করছে। তবে একটি নতুন বিভাগ চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে একটি বিষয়কে আকর্ষণীয় করে তোলা এক বিষয় নয়। একটি বিষয়ে শিক্ষার্থীর আস্থা তৈরি করতে হলে সেই শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কও স্পষ্ট করতে হয়।

আগ্রহ আছে, কিন্তু পথ পরিষ্কার নয়—

২০২৫ সালে ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন এডুকেটর’–এ প্রকাশিত গবেষণায় বাংলাদেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪০ জন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীর ওপর একটি জরিপ করা হয়। গবেষণাটি শিক্ষার্থীদের মিডিয়া পেশায় যাওয়ার আগ্রহের পেছনে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেছে।

গবেষণায় শিক্ষার্থীরা যে বিষয়টি পড়ছেন, সেটি উপভোগ করলে এবং আগে থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে এ বিষয়ে পড়ার আগ্রহ বাড়ে। অন্যদিকে গণমাধ্যম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থাকলে সেই আগ্রহ কমে। একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা পড়ছেন বলেই যে তিনি শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতা পেশায় যাবেন, এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর ধারণা বদলাতে পারে। একইভাবে যিনি শুরুতে সাংবাদিকতায় আগ্রহী নন, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁর আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

এ জায়গা বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একজন শিক্ষার্থী যখন কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করছেন, তখন বিষয়টির সঙ্গে সম্ভাব্য পেশার সম্পর্কটি তাঁর কাছে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

আর্থসামাজিক অবস্থানও কি ভূমিকা রাখে—

২০২৬ সালে ‘SAGE Open’-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা এ প্রশ্নকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে। আগের গবেষণার সঙ্গে একই গবেষক দলের এ গবেষণায়ও ১৬টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪০ জন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণাটির বিষয় ছিল শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক পটভূমি, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, পেশাগত পছন্দ এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সঙ্গে মিডিয়া পেশা বেছে নেওয়ার সম্পর্ক।

গবেষণায় পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থানের সঙ্গে মিডিয়া পেশায় আগ্রহের একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যে পরিবারের আয় বেশি, সে পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিডিয়া পেশায় আগ্রহ তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে গবেষণাটি একই সঙ্গে দেখিয়েছে, পরিবারের আয় একাই শিক্ষার্থীর পেশা নির্বাচনের প্রধান পরিমাপক নয়; শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ, কোন ধরনের মিডিয়া পেশায় যেতে চান এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে তার ধারণাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয় যে শিক্ষার্থীর আর্থসামাজিক অবস্থা তাঁর পেশাগত প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত।

চাকরির বাজারের বাস্তবতা—

মিডিয়া বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের পেছনে শুধু পরিবারের ধারণা দায়ী নয়। গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশও একটি বড় বিষয়। ২০২৬ সালের একটি গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলগুলোর একটি হলো, গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশ ও পেশাগত বাস্তবতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা শিক্ষার্থীদের মিডিয়া পেশায় যাওয়ার আগ্রহ কমায়। এ ছাড়া বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত ইউনেসকো ও ইউএনডিপির এক জরিপে গণমাধ্যমের আর্থিক চাপ, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও পেশাগত নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে। সাংবাদিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পেশাগত মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও সেখানে বলা হয়েছে। গবেষণায় পাওয়া গেছে, এসব বিষয় মিডিয়া পেশায় যাওয়ার অনাগ্রহ থাকার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত। ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে অনিশ্চয়তাও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

একটি পরিবার যখন সন্তানের উচ্চশিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইতে পারে যে পড়াশোনা শেষ করে সন্তান কী ধরনের পেশায় যাবে, সেই পেশায় আয় ও নিরাপত্তা কেমন এবং ভবিষ্যতে উন্নতির সুযোগ কতটা। এ উদ্বেগকে পুরোপুরি অমূলক বলা যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম কতটা বদলেছে—

এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। গণমাধ্যমের প্রযুক্তি দ্রুত বদলালেও অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সেই গতিতে বদলায়নি—এমন সমালোচনা গবেষণায় এসেছে। সাংবাদিকতা শিক্ষার ক্ষেত্রে নিউজরুমের বাস্তব অভিজ্ঞতা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতির কথাও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একজন শিক্ষার্থী যদি চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বের হওয়ার পরও সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা, তথ্য যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা না পান, তাহলে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে তার দক্ষতার দূরত্ব তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এই জায়গায় শুধু নতুন কোর্স চালু করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভালো শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব, ব্যবহারিক কাজ, সংবাদমাধ্যম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, ইন্টার্নশিপ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ—

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। একসময় সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীকে সংবাদ লেখা, ছবি তোলা, ভিডিও সম্পাদনা কিংবা তথ্য সংগ্রহের জন্য যে সময় দিতে হতো, প্রযুক্তির কারণে তার কিছু কাজ এখন অনেক দ্রুত করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লেখা তৈরি করতে পারে, অডিও থেকে লেখা তৈরি করতে পারে, অনুবাদ করতে পারে, ছবি ও ভিডিও সম্পাদনায় সহায়তা করতে পারে।

কিন্তু এর সঙ্গে নতুন কিছু দক্ষতার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি তথ্য কীভাবে যাচাই করা হবে? ভুল তথ্য কীভাবে শনাক্ত করা হবে? কোনো ছবি বা ভিডিও আসল কি না, তা কীভাবে বোঝা যাবে? প্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় সাংবাদিকতার নৈতিকতা কীভাবে বজায় থাকবে? এই প্রশ্নগুলোই ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা শিক্ষার অংশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ, প্রযুক্তি তথ্য তৈরি করতে পারে, কিন্তু তথ্যের সামাজিক মূল্য, সত্যতা ও নৈতিকতা বিচার করার দায়িত্ব এখনো মানুষের।

টিকে থাকার প্রশ্নটি তাই অন্য জায়গায়—

তবে এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও নিজেদের বদলাতে হবে। শুধু বিভাগের নামের সঙ্গে ‘মিডিয়া’ বা ‘ডিজিটাল’ শব্দ যুক্ত করলেই হবে না। শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ, তথ্য যাচাই, নির্ভুলতা, নৈতিকতা, জনস্বার্থ ও দায়িত্বশীলতা—এ ব্যাপারগুলো অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

ছয় দশক পর নতুন সংজ্ঞা—

১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা শিক্ষা শুরু হওয়ার সময় যে কর্মজগতের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হতো, তার সঙ্গে আজকের কর্মজগতের অনেক পার্থক্য। তখন সংবাদপত্র ও রেডিও ছিল প্রধান মাধ্যম। পরে টেলিভিশন এসেছে। এরপর অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, পডকাস্ট, ওটিটি এবং এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে গণমাধ্যমের কাজের ধরন বদলেছে। বদলেছে মিডিয়া শিক্ষার প্রয়োজনও। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া পড়তে শিক্ষার্থীরা কেন আগ্রহী হবে—এ প্রশ্নের উত্তর শুধু ‘চাকরি হবে কি না’ দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বয়স ছয় দশকের বেশি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই শিক্ষার বয়সও এখন কয়েক দশকের। ফলে এখন আর প্রশ্নটি শুধু নতুন বিভাগ খোলার নয়, প্রশ্নটি হলো, পরিবর্তিত গণমাধ্যমের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেমন মানুষ তৈরি করবে? সম্ভবত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া বিভাগগুলোর টিকে থাকার লড়াই শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী পাওয়ার লড়াই নয়। এটি নিজেদের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে প্রমাণ করার লড়াই, সেটি শিক্ষার্থীর কাছে, পরিবারের কাছে এবং বদলে যাওয়া গণমাধ্যমশিল্পের কাছে।

*লেখক: কাজী কামরুন নাহার তানিয়া, শিক্ষক ও গবেষক, মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

পাঠোত্তর প্রতিফলন ও সারসংক্ষেপ অনুশীলন (Active Recall)

প্রতিবেদনটি পড়া শেষ করার পর মূল ভাবটি নিজের ভাষায় ২-৩ বাক্যে লিখুন। এটি বিসিএস লিখিত ও ভর্তি পরীক্ষার ফোকাস রাইটিংয়ে আপনার নিজের ভাষায় উত্তর লেখার সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সরাসরি আপনার স্টাডি হাবে সংরক্ষিত হবে
সংরক্ষণ করতে লগইন করুন

পঠন মূল্যায়ন ও কুইজ (Active Recall Comprehension)

প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার বোধগম্যতা ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করুন

1টি প্রশ্ন
প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র:অনুচ্ছেদ ১ • মূল প্রেক্ষাপট

" বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বয়স ছয় দশকের বেশি, যার শুরুটা ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাধ্যমে হয়েছিল।"

1. [বিসিএস ও সাধারণ জ্ঞান ও সমকালীন পরিক্রমা] "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে পড়তে শি..." প্রতিবেদনের আলোকে আলোচিত প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য, সিদ্ধান্ত বা প্রেক্ষাপট কোনটি?