রাতের আকাশে নিশ্চয়ই অসংখ্য তারা দেখেছ। সেগুলোর কোনোটি আমাদের সূর্যের মতো, কোনোটি আবার তার চেয়ে ছোট ও ঠান্ডা। এসব তারাকে ঘিরে ঘুরছে নানা গ্রহ। কোনো গ্রহ পাথুরে, কোনোটি গ্যাসে ভরা। কোথাও হয়তো আছে পানি, কোথাও আবার তীব্র গরমে পাথর পর্যন্ত গলে যায়। কিন্তু এই গ্রহগুলোর কোনোটি কি প্রাণের জন্য পৃথিবীর চেয়েও ভালো জায়গা হতে পারে? মানে এমন কোনো জায়গা কি আছে, যেখানে প্রাণীরা পৃথিবীর চেয়েও আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবে?
আমরা সাধারণত পৃথিবীকে প্রাণের জন্য আদর্শ জায়গা বলে ধরে নিই। এখানে বাতাস, পানি, সূর্যের আলো, গাছপালা, পশুপাখিসহ আরও কত রকম অণুজীব আছে। কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গা তো প্রাণের জন্য সমানভাবে ভালো নয়। সাহারা মরুভূমির প্রচণ্ড গরমে টিকে থাকা যেমন কঠিন, তেমনি অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা পরিবেশেও বেঁচে থাকা সহজ নয়। আবার পৃথিবীর এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে জীবনের ছড়াছড়ি। উষ্ণ সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর কিংবা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জ তার উদাহরণ।
তাহলে এমন কোনো গ্রহ কি থাকতে পারে, যেখানে প্রাণের জন্য ভালো পরিবেশ পৃথিবীর চেয়েও বেশি? যেখানে বিস্তীর্ণ অগভীর সমুদ্র, ছোট ছোট দ্বীপ আর নানা রকম বাসস্থান মিলে প্রাণের বিকাশের সুযোগ করে দেবে? যেখানে জীবনের বিকাশের জন্য পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি সময়ও পাওয়া যাবে?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন গ্রহের কথা ভাবছেন। এদের নাম দিয়েছেন সুপারহ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ড বা পৃথিবীর চেয়েও বেশি বাসযোগ্য জগৎ। এই গ্রহগুলো কেমন হতে পারে, কোথায় খুঁজতে হবে এবং কীভাবে সেখানে প্রাণের চিহ্ন খোঁজা সম্ভব, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন।
কয়েক বছর আগে জার্মানির বার্লিনের একটি গবেষণাগারে অদ্ভুত এক পরীক্ষা করছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইভা ভিলোভিচ। তিনি এমন এক আলো তৈরি করেছিলেন, যা দেখতে অনেকটা কমলা রঙের কোনো তারার আলোর মতো। এই তারার নাম কে-ডোয়ার্ফ। আমাদের সূর্যের তুলনায় এটি কিছুটা ঠান্ডা। এর জ্বালানিও অনেক ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসে।
সেই আলোয় তিনি চাষ করছিলেন গার্ডেন ক্রেস নামে ছোট্ট একটি গাছ। দেখতে অনেকটা শর্ষের চারার মতো। গাছটির বীজ থেকে চারা গজানোর পর দেখা গেল, কমলা তারার মতো আলোয় গাছগুলো শুধু বেড়েই উঠছে না, বরং সূর্যের আলোর মতো আলোয় বেড়ে ওঠা গাছের তুলনায় দ্রুত ও লম্বাও হচ্ছে।
পরীক্ষার ফল দেখে ভিলোভিচ অবাক হয়েছিলেন। কারণ, পৃথিবীতে প্রাণের জন্য সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব ধরনের নক্ষত্রের আলো যে উদ্ভিদের জন্য সমান উপযোগী হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।
গাছপালা কীভাবে আলো থেকে শক্তি পায়, তা নিশ্চয়ই জানো। এ প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ। গাছ সূর্যের আলো ব্যবহার করে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে শর্করা–জাতীয় খাবার তৈরি করে। এই খাবার থেকেই গাছ শক্তি পায় এবং বেড়ে ওঠে। শুধু তা-ই নয়, পৃথিবীর প্রায় সব খাদ্যশৃঙ্খলের শুরুতেই রয়েছে উদ্ভিদ বা অন্য কোনো সালোকসংশ্লেষণকারী জীব। কোনো প্রাণী সরাসরি গাছ খায়, কোনো প্রাণী আবার গাছখেকো প্রাণীকে খায়। এভাবেই খাবার ও শক্তি এক জীব থেকে অন্য জীবে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই অন্য কোনো নক্ষত্রের আলোয় গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারলে সেটি প্রাণের সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। অবশ্য গবেষণাগারে একটি গাছের বেড়ে ওঠা দেখে কোনো দূরবর্তী গ্রহে প্রাণ আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সেখানে উপযুক্ত তাপমাত্রা, পানি, বায়ুমণ্ডলসহ আরও অনেক শর্ত পূরণ হতে হবে। তবে এই পরীক্ষার সাহায্যে অন্তত এটুকু বোঝা যাবে যে প্রাণের জন্য কি শুধু সূর্যের মতো নক্ষত্রই দরকার নাকি অন্য রকম নক্ষত্রের গ্রহেও প্রাণ থাকতে পারে।
ভিলোভিচের মতে, কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রের আলো প্রাণের সন্ধানে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার মতো। কারণ, এই আলোয় সালোকসংশ্লেষণ সম্ভব হলে এমন নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা গ্রহেও উদ্ভিদের মতো জীবের বিকাশ ঘটতে পারে। আর সেই গ্রহ যদি পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় হয়, তাহলে সেখানে প্রাণের বিকাশের সুযোগ আরও বেশি থাকতে পারে।
সুপারহ্যাবিটেবল গ্রহের ধারণাটি বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে সুপার-আর্থ কী। নাম শুনে মনে হতে পারে, এটি বুঝি পৃথিবীর চেয়ে সব দিক থেকে শ্রেষ্ঠ কোনো গ্রহ। আসলে তা নয়। সুপার-আর্থ বলতে সাধারণত পৃথিবীর চেয়ে বড় বা বেশি ভরের পাথুরে গ্রহকে বোঝানো হয়। তবে এদের আকার, ভর কিংবা গঠন এক রকম নয়। কোনোটি প্রাণের জন্য উপযুক্ত হতে পারে, কোনোটি আবার একেবারেই অনুপযোগী।
বিজ্ঞানীরা যে সুপারহ্যাবিটেবল গ্রহের কথা ভাবছেন, তার আকার পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে। ভর হতে পারে পৃথিবীর প্রায় দ্বিগুণ। গ্রহটির নক্ষত্র থেকে দূরত্বও হতে হবে ঠিকঠাক। খুব কাছে হলে প্রচণ্ড গরমে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে পারে। আবার অনেক দূরে থাকলে পানি জমে হয়ে যেতে পারে বরফ। মাঝামাঝি এমন দূরত্ব দরকার, যেখানে গ্রহের পৃষ্ঠে তরল পানি থাকতে পারে।
এই দূরত্বকে বলা হয় বাসযোগ্য অঞ্চল বা হ্যাবিটেবল জোন। তবে এই অঞ্চলে থাকলেই যে কোনো গ্রহে প্রাণ থাকবে, তা নয়। গ্রহের বায়ুমণ্ডল কেমন, তাপমাত্রা কত, পানি আছে কি না—এমন অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে সেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে কি না।
এবার কল্পনা করো, পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় একটি গ্রহ। এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর তুলনায় বেশি। ফলে গ্রহটি বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলোকে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে এর বায়ুমণ্ডল হতে পারে ঘন। ফলে জলবায়ু থাকতে পারে স্থিতিশীল। তবে শুধু গ্রহ বড় হলেই বায়ুমণ্ডল ঘন হবে বা আবহাওয়া ভালো হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। গ্রহের গঠন ও ইতিহাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
বড় গ্রহটির কেন্দ্র হতে পারে পৃথিবীর চেয়ে বড়। সেই কেন্দ্রে যদি উপযুক্ত গঠন থাকে, তাহলে গ্রহটির চারপাশে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এই চৌম্বকক্ষেত্র নক্ষত্র থেকে আসা কিছু ক্ষতিকর কণা ও বিকিরণ থেকে গ্রহকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। পৃথিবীরও এমন একটি চৌম্বকক্ষেত্র আছে। সূর্য থেকে আসা চার্জযুক্ত কণার সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়ার ফলে মেরু অঞ্চলে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর মেরুজ্যোতি।
তবে মনে রেখো, বড় আয়রন কোর থাকলেই শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হবে, এমন নয়। গ্রহের ভেতরে কী ঘটছে, তার ওপরও বিষয়টি নির্ভর করে। সুপারহ্যাবিটেবল গ্রহের এসব বৈশিষ্ট্য তাই এখনো সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য, প্রমাণিত কোনো গ্রহের নিশ্চিত বর্ণনা নয়।
এবার কল্পনার চোখে একটি সুপারহ্যাবিটেবল গ্রহে ঘুরে আসা যাক। দূর থেকে গ্রহটিকে দেখতে পৃথিবীর মতোই নীল-সবুজ মনে হতে পারে। তবে এর পৃষ্ঠে হয়তো আমাদের পৃথিবীর মতো বিশাল বিশাল মহাদেশ কম। বরং সেখানে আছে অনেক দ্বীপ, চারপাশে অগভীর সমুদ্র। কোথাও প্রবালপ্রাচীরের মতো কাঠামো, কোথাও ছোট ছোট উপসাগর। পানির গভীরতা কম হওয়ায় সূর্য বা নক্ষত্রের আলো পৌঁছে যাচ্ছে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত।
এমন পরিবেশ প্রাণের জন্য কেন ভালো হতে পারে? পৃথিবীর দিকে তাকালেই এর একটা ধারণা পাওয়া যায়। উষ্ণ সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর পৃথিবীর সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বাসস্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। একই জায়গায় নানা ধরনের মাছ, কাঁকড়া, শামুক, প্রবাল, শৈবাল এবং অগণিত ক্ষুদ্র জীব বাস করে। আবার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জেও প্রাণের বৈচিত্র্য অনেক বেশি। দ্বীপগুলোর মধ্যে দূরত্ব থাকায় এক জায়গার প্রাণী অন্য জায়গায় সহজে পৌঁছাতে পারে না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা আলাদা দ্বীপে ভিন্ন প্রজাতির বিকাশ ঘটতে পারে।
ধরো, কোনো দ্বীপে এক ধরনের ছোট প্রাণী বাস করে। খাবার খুঁজতে গিয়ে তার একটি দল পাশের দ্বীপে চলে গেল। দুই দ্বীপের পরিবেশে সামান্য পার্থক্য আছে। কোথাও খাবার শক্ত, কোথাও নরম। কোথাও শিকারি বেশি, কোথাও কম। বহু প্রজন্ম ধরে এসব পার্থক্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে দুই দ্বীপের প্রাণীগুলোও আলাদা হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘ সময় পর তাদের মধ্যে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটতে পারে।
এমন ঘটনা পৃথিবীতেও ঘটেছে। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপে থাকা পাখিদের ঠোঁটের আকারে পার্থক্য দেখা যায়। কোন দ্বীপে কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়, তার সঙ্গে এই পার্থক্যের সম্পর্ক আছে।
তাই বিজ্ঞানীরা ভাবছেন, কোনো গ্রহে যদি অনেক দ্বীপ আর অগভীর সমুদ্র থাকে, তাহলে সেখানে প্রাণের বিকাশের জন্য বিচিত্র পরিবেশ তৈরি হতে পারে। অগভীর পানিতে আলো পৌঁছালে সালোকসংশ্লেষণকারী জীবও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। সেই জীবকে খাবার হিসেবে ব্যবহার করবে অন্য প্রাণী। এভাবে তৈরি হতে পারে জটিল খাদ্যশৃঙ্খল।
অবশ্য এমন গ্রহের পুরোটা জুড়েই যে স্বর্গের মতো হবে, তা নয়। কোথাও ঝড় হতে পারে, কোথাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। কোনো অঞ্চলে প্রাণের বিকাশের সুযোগ বেশি থাকতে পারে, আবার কোনো অঞ্চল হতে পারে অনুর্বর। পৃথিবীও যে তেমন তা আগেই বলেছি। বিজ্ঞানীরা যে সুন্দর দ্বীপে ভরা গ্রহের কথা ভাবছেন, সেটি এখনো একটি সম্ভাব্য ধারণা, আমরা এমন কোনো গ্রহ কাছ থেকে দেখিনি।
তবু কল্পনা করতে দোষ কী? আকাশের কোনো এক কমলা তারাকে ঘিরে ঘুরছে এমনই একটি গ্রহ। তার অগভীর সমুদ্রে আলো পৌঁছে যাচ্ছে তলদেশ পর্যন্ত। সেখানে হয়তো অচেনা শৈবাল খাবার তৈরি করছে। তাদের খেয়ে বেঁচে আছে বিচিত্র সব প্রাণী। হয়তো সেগুলোর কোনোটি দেখতে আমাদের মাছের মতো, কোনোটি আবার পৃথিবীর কোনো প্রাণীর সঙ্গেই মেলে না। এসবই কল্পনা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই কল্পনাকে বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পথ খুঁজছেন।
আমরা পৃথিবীতে জন্মেছি বলেই পৃথিবীকে প্রাণের জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা বলে ধরে নিই। কিন্তু একটু ভেবে দেখো, পৃথিবীর ইতিহাস খুব মসৃণ ছিল না। প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবী ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে পৃষ্ঠে তরল পানি জমার উপযোগী হয়। পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাবও ঘটেছিল অনেক আগে।
পৃথিবীতে প্রাণ টিকে আছে ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে গ্রহটি সব সময় প্রাণের জন্য আদর্শ ছিল। পৃথিবী দীর্ঘ সময় বরফে ঢেকে ছিল, আবার তীব্র উষ্ণ সময়ও এসেছে। বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। আজও জলবায়ুর পরিবর্তন, বাসস্থান ধ্বংস ও দূষণ নানা প্রাণের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এর সঙ্গে যোগ করো সূর্যের ভবিষ্যৎ। সূর্য ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হচ্ছে। আরও বহু কোটি বছর ধরে এই পরিবর্তন চলবে। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, আনুমানিক ৫০ কোটি বছর পর পৃথিবী এতটাই উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে যে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মতো জটিল জীবনের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। আরও অনেক পরে সূর্য অনেক বড় হয়ে লাল দানবে পরিণত হবে। তখন পৃথিবীর পরিবেশ আরও ভয়াবহভাবে বদলে যাবে।
পৃথিবীর কক্ষপথ যদি সূর্যের বর্তমান অবস্থানের তুলনায় মাত্র দুই শতাংশ ভেতরে থাকত, তাহলে পৃথিবীর ইতিহাসও অন্য রকম হতে পারত। সূর্যের এত কাছে থাকলে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পানি জমে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া কঠিন হতে পারত। অর্থাৎ ঠিক যে স্থানে থাকলে পৃথিবীতে প্রাণ টিকে থাকা সম্ভব, পৃথিবী সেখানেই আছে।
এখানে একটা কথা মনে রাখা জরুরি। পৃথিবীর চেয়ে বেশি বাসযোগ্য গ্রহ খোঁজার অর্থ পৃথিবী খারাপ, এমন নয়। বরং আমরা জানতে চাই, প্রাণের বিকাশের জন্য পৃথিবীর মতো পরিবেশই কি একমাত্র পথ? নাকি কিছু পরিবেশে প্রাণ আরও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে, আরও বেশি বৈচিত্র্য তৈরি করতে পারে?
এই প্রশ্ন থেকেই সুপারহ্যাবিটেবল গ্রহের ধারণা এসেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, কে প্রথম এমন গ্রহের কথা ভাবলেন? ২০১০-এর দশকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে পৃথিবীর চেয়ে বেশি বাসযোগ্য গ্রহ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই ভাবনার পেছনে ছিল একটি সহজ প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের ওয়েবার স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জন আর্মস্ট্রং একবার প্রাণের সন্ধান নিয়ে একটি অনলাইন সেমিনারের ভিডিওর নিচে কমেন্ট করেছিলেন, ‘পৃথিবীর চেয়েও বেশি বাসযোগ্য গ্রহ কি থাকা উচিত নয়?’
প্রশ্নটি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী রেনে হেলার। তিনি এখন জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোলার সিস্টেম রিসার্চে কাজ করেন। দূরের গ্রহে প্রাণের রাসায়নিক চিহ্ন খোঁজার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সাধারণত পৃথিবীর মতো গ্রহ খুঁজে থাকেন। অর্থাৎ, পাথুরে গ্রহ, যেখানে পানি থাকতে পারে এবং যা সূর্যের মতো নক্ষত্রকে ঘিরে ঘোরে।
এমন গ্রহ খোঁজার যুক্তি আছে। পৃথিবীতে প্রাণ আছে, তাই পৃথিবীর মতো পরিবেশে অন্য কোথাও প্রাণ থাকতে পারে; এমন ধারণা অযৌক্তিক নয়। কিন্তু হেলারের মনে হয়েছিল, এখানে একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা পৃথিবীর বাসিন্দা বলে পৃথিবীকেই প্রাণের জন্য আদর্শ ধরে নিচ্ছি না তো?
একসময় মানুষ ভাবত, মহাবিশ্বের কেন্দ্রে পৃথিবী রয়েছে এবং সূর্যসহ সবকিছু পৃথিবীকে ঘিরে ঘোরে। পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, পৃথিবী মহাবিশ্বের কোনো বিশেষ কেন্দ্র নয়। সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, আর সূর্যও মহাবিশ্বের অসংখ্য নক্ষত্রের একটি মাত্র।
এই ধারণাগত পরিবর্তনকে বলা হয় কোপার্নিকাসের বিপ্লব। হেলার মনে করেন, প্রাণের সন্ধানেও আমাদের একই রকম পক্ষপাত থাকতে পারে। আমরা পৃথিবীর মতো গ্রহ খুঁজছি, কারণ পৃথিবী আমাদের বাড়ি। কিন্তু মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের জন্য পৃথিবীর চেয়ে ভালো পরিবেশ থাকতেও তো পারে।
আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হেলার। দুজন মিলে ২০১৪ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁরা সুপারহ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডের ধারণা তুলে ধরেন। তাঁরা এমন গ্রহের কথা কল্পনা করেছিলেন, যেগুলো পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় এবং যেখানে অনেক দ্বীপ ও অগভীর সমুদ্র থাকতে পারে।
তাঁদের প্রস্তাব ছিল, দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে প্রাণের চিহ্ন খোঁজার সময় শুধু পৃথিবীর যমজ গ্রহের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; পৃথিবীর চেয়ে বেশি বাসযোগ্য হতে পারে, এমন গ্রহও খুঁজতে হবে।
সুপারহ্যাবিটেবল গ্রহের জন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে আগ্রহী কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্র নিয়ে। এগুলো সূর্যের চেয়ে ছোট ও ঠান্ডা। এদের আলোতে কমলা আভা থাকতে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এ ধরনের নক্ষত্র খুব ধীরে জ্বালানি খরচ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলক স্থিরভাবে আলো ছড়ায়।
আমাদের সূর্যের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল শক্তি বেরিয়ে আসে, যা আলো ও তাপ হিসেবে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সূর্যের কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের জ্বালানি একসময় কমে আসবে। তখন সূর্যের গঠন ও আকারে বড় পরিবর্তন ঘটবে। অনেক কোটি বছর পর এটি লাল দানবে পরিণত হবে।
কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ঘটতে অনেক বেশি সময় লাগে। এ ধরনের নক্ষত্র কয়েক হাজার কোটি বছর ধরে আলো ছড়াতে পারে। অর্থাৎ এমন নক্ষত্রকে ঘিরে কোনো গ্রহে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হলে, সেই পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সুযোগ পেতে পারে।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাস প্রায় ৪০০ কোটি বছরের। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে জীবজগৎ এককোষী জীব থেকে ক্রমে বহু ধরনের জটিল জীবের আবির্ভাব দেখেছে। এই প্রক্রিয়া কখনো সরল পথে এগোয়নি। বহু প্রজাতি এসেছে, বিলুপ্ত হয়েছে, আবার নতুন প্রজাতি তৈরি হয়েছে।
এখন কল্পনা করো, এমন কোনো গ্রহে প্রাণের বিকাশ শুরু হলো, যার নক্ষত্র আরও বহু কোটি বছর স্থিরভাবে আলো দিয়ে যাবে। সেখানে প্রাণের টিকে থাকার জন্য পৃথিবীর তুলনায় বেশি সময় পাওয়া যেতে পারে। অবশ্য বেশি সময় পেলেই প্রাণ আরও বুদ্ধিমান বা জটিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পরিবেশ, বিপর্যয়, জীবের পারস্পরিক সম্পর্কসহ অনেক কিছুই এখানে ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘ সময় পাওয়া যে একটি সুবিধা হতে পারে, তা বিজ্ঞানীরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
কার্নেগি ইনস্টিটিউশন ফর সায়েন্সের গ্রহবিজ্ঞানী জোহানা টেস্কের মতে, কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রগুলো প্রাণের সন্ধানের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়। কারণ, এসব নক্ষত্রকে ঘিরে এমন দূরত্বে গ্রহ থাকতে পারে, যেখানে তরল পানি টিকে থাকার সুযোগ আছে। সূর্যের মতো নক্ষত্রের তুলনায় এই দূরত্ব কম হওয়ায় গ্রহগুলো পর্যবেক্ষণ করাও কিছু ক্ষেত্রে সহজ হতে পারে।
তাহলে আমরা এখনো এমন গ্রহ খুঁজে পেলাম না কেন? আসলে মহাবিশ্বে গ্রহ খুঁজে পাওয়া আর সেখানে প্রাণ আছে কি না, তা বোঝা এক বিষয় নয়। কোনো গ্রহের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে পারলেও তার পৃষ্ঠে কী আছে, বায়ুমণ্ডল কেমন, সেখানে পানি আছে কি না তা জানা কঠিন। আর প্রাণের চিহ্ন খোঁজা আরও কঠিন কাজ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূরের গ্রহের বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাস খোঁজেন। কোনো কোনো গ্যাস জীবের কর্মকাণ্ডের ফলে তৈরি হতে পারে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের বড় অংশ এসেছে সালোকসংশ্লেষণকারী জীবের মাধ্যমে। তাই অন্য কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন বা অন্য সম্ভাব্য জৈবিক গ্যাসের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের আগ্রহী করে তুলতে পারে।
তবে কোনো একটি গ্যাস পেলেই সেখানে প্রাণ আছে বলে ঘোষণা করা যায় না। একই গ্যাস প্রাণ ছাড়াও অন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে। তাই বিজ্ঞানীদের একাধিক সূত্র মিলিয়ে দেখতে হয়। গ্রহের নক্ষত্র কেমন, বায়ুমণ্ডলে কী কী গ্যাস আছে, সেগুলোর পরিমাণ কত—সবকিছু বিশ্লেষণ করে তারপর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়।
বর্তমানে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো যন্ত্র দিয়ে কিছু দূরবর্তী গ্রহের বায়ুমণ্ডল পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। তবে পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহের বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করা এখনো কঠিন। বিশেষ করে ছোট লাল নক্ষত্র বা এম-ডোয়ার্ফকে খুব কাছ থেকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। নক্ষত্রের তীব্র বিকিরণ ও অন্যান্য সক্রিয়তা গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিছু গ্রহের ক্ষেত্রে বায়ুমণ্ডল হারিয়ে ফেলার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ কারণেই কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা সুপার-আর্থগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এসব গ্রহের মধ্যে কোনোটি উপযুক্ত দূরত্বে থাকলে, তার বায়ুমণ্ডল পরীক্ষা করে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করা যাবে।
তবে আগে তো গ্রহগুলো খুঁজে বের করতে হবে!
এই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্লাতো মিশনের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টেলিস্কোপ ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণ করা হবে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো এমন গ্রহ খুঁজে বের করা, যেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে। এর মধ্যে কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা সুপার-আর্থও থাকবে।
রেনে হেলার এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ধারণা, প্লাতো হয়তো এমন কয়েকটি গ্রহ খুঁজে পাবে। এমনকি এই সংখ্যা এক ডজনের কাছাকাছিও হতে পারে। তবে শুধু গ্রহের অস্তিত্ব জানলেই সেগুলো সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যাবে না। এরপর প্রয়োজন হবে আরও শক্তিশালী যন্ত্র দিয়ে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বাসযোগ্য কিছু সুপার-আর্থের বায়ুমণ্ডল পরীক্ষা করতে পারে। চিলিতে নির্মাণাধীন এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপের প্রধান আয়নার ব্যাস ৩৯ মিটার। এটি চালু হলে দূরের গ্রহ নিয়ে গবেষণায় আরও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া নাসার পরিকল্পনায় রয়েছে হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটরি নামের একটি মহাকাশ মিশনের। সবকিছু ঠিক থাকলে সেটি ২০৪০-এর দশকে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দূরের গ্রহের বায়ুমণ্ডল ও প্রাণের সম্ভাব্য চিহ্ন আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
এসব পরিকল্পনা সফল হলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হয়তো এমন কিছু গ্রহ খুঁজে পাবেন, যেগুলো পৃথিবীর চেয়ে বড় এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল পরিবেশ ধরে রাখতে পারবে। সেখানে তরল পানি থাকার সম্ভাবনাও থাকতে পারে। এরপরও সেগুলোকে সত্যিকারের সুপারহ্যাবিটেবল বলা যাবে কি না, তা বুঝতে আরও অনেক পর্যবেক্ষণ দরকার হবে।
কারণ, ‘বাসযোগ্য’ আর ‘প্রাণ আছে’ কথা দুটির মধ্যে পার্থক্য কিন্তু অনেক। কোনো গ্রহে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে, কিন্তু সেখানে হয়তো কখনো প্রাণের জন্মই হয়নি। আবার প্রাণের জন্ম হলেও তা হয়তো এককোষী জীবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। পৃথিবীর মতো জটিল জীবজগৎ তৈরি হওয়া আরও অনেক শর্তের ওপর নির্ভর করে।
একটা মজার প্রশ্ন দিয়ে শেষ করি। ধরে নিচ্ছি পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে বাসযোগ্য গ্রহ আছে। তাহলে সেখানে কি কেউ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে? হ্যাঁ, এলিয়েনের কথাই বলছি! অর্থাৎ আমরা কি মহাবিশ্বে একা?
রেনে হেলারের কাছে এই অনুসন্ধানের অর্থ হলো, মহাবিশ্বে আমরা একা কি না, অন্য কোনো সভ্যতা আমাদের খুঁজে পেতে পারে কি না, কিংবা এমন কেউ আছে কি না, যার সঙ্গে একদিন কথা বলা সম্ভব হবে—সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা।
এ প্রশ্নের উত্তর এখনো আমাদের জানা নেই। মহাবিশ্বে অসংখ্য নক্ষত্র আছে, সেগুলোর অনেকগুলোকে ঘিরে গ্রহও রয়েছে। কিন্তু শুধু গ্রহের সংখ্যা দিয়ে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায় না। প্রাণের জন্ম কতটা সহজ, কতটা কঠিন, আর একবার প্রাণের জন্ম হলে জটিল জীব বা বুদ্ধিমান প্রাণের বিকাশ কতটা সম্ভাব্য; এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
হয়তো কোনো একদিন বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্রহ খুঁজে পাবেন, যার আকাশ কমলা নক্ষত্রের আলোয় রাঙানো। তার পৃষ্ঠে আছে অগভীর সমুদ্র, ছড়িয়ে আছে অসংখ্য দ্বীপ। সেখানে প্রাণের বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশও রয়েছে। আবার এমনও হতে পারে, অনেক অনুসন্ধানের পরও পৃথিবীর চেয়ে বেশি বাসযোগ্য কোনো গ্রহের প্রমাণ মিলল না।
তবু খোঁজ চালিয়ে যেতে হবে। এর পেছনেও একটা বড় কারণ আছে। পৃথিবীকে আমরা যত ভালোভাবে বুঝব, তত ভালোভাবে বুঝতে পারব অন্য কোথাও প্রাণের সন্ধান কীভাবে করতে হবে। যদি সত্যিই এমন কোনো জগৎ খুঁজে পাই, যেখানে প্রাণ আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশি বৈচিত্র্যময়, তাহলে জীবনের গল্প সম্পর্কে আমাদের ধারণাই বদলে যেতে পারে।
এখন পর্যন্ত পৃথিবীই আমাদের জানা একমাত্র প্রাণের জগৎ। কিন্তু মহাবিশ্ব এত বিশাল যে এই একটি উদাহরণ দেখেই ‘প্রাণের সব সম্ভাবনা বুঝে ফেলেছি’ বলে দাবি করার সুযোগ নেই। হয়তো দূরের কোনো কমলা নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরছে পৃথিবীর চেয়েও বাসযোগ্য একটি গ্রহ। মহাবিশ্বে আর কোথাও প্রাণ আছে কি না, তা জানতেও সেই গ্রহের বিজ্ঞানীরাও আকাশের পানে তাকিয়ে আছেন!


