জাতীয় পরিক্রমালক্ষ্য: বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি

পরি, সিংহ, হরিণের নকশায় সাজানো জমিদারদের পালঙ্ক, লম্বা ১২৩ ইঞ্চি

পরি, সিংহ, হরিণসহ নানা অবয়ব ও নকশায় সাজানো এসব পালঙ্ক বাংলার দারুশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাক্ষী।

প
প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়)•২ নভে, ২০২৬•বিস্তারিত প্রতিবেদন
৩ মিনিট পাঠ

শিক্ষণীয় মূল বিষয়বস্তু (Exam Key Takeaways)

  • মূল সারসংক্ষেপ: পরি, সিংহ, হরিণের নকশায় সাজানো জমিদারদের পালঙ্ক, লম্বা ১২৩ ইঞ্চি। এর মূল চিত্র হলো— জাতীয় জাদুঘরে ঢুকলে চোখে পড়ে ইতিহাসের নানা নিদর্শন।
  • প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ: সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব রুচির ছাপও থাকত এসব আসবাবে।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব: শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, নির্বাচন ও সাংবিধানিক কাঠামো সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান ও লিখিত পরীক্ষার জন্য তথ্যটি সহায়ক।

বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা তথ্য ছক (Exam Fact Sheet)

হাই-ইল্ড ডেটা

প্রিলিমিনারি নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত রচনায় কোটেশনযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান

ক্ষেত্র / সূচকসুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যানপরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা / প্রধান পক্ষকর্তৃপক্ষ ও মূল পক্ষ
পরি, সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজন
সংবিধিবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার, সুশাসন ও নির্বাহী কর্তৃত্ব
সুনির্দিষ্ট উপাত্ত / মূল সিদ্ধান্তউপাত্ত ও প্রধান সিদ্ধান্ত
পরি, সিংহ, হরিণের নকশায় সাজানো জমিদারদের পালঙ্ক, লম্বা ১২৩ ইঞ্চি জাতীয় জাদুঘরে ঢুকলে চোখে ...
সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ ও নীতিগত সিদ্ধান্তের তথ্য
কার্যকর সময়কাল / আইনি ভিত্তিআইনি ভিত্তি ও পটভূমি
চলতি অর্থবছর ও সমসাময়িক পরিক্রমা
সরকারি নীতি কার্যকর ও জাতীয় বাস্তবায়ন সময়রেখা
বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কোণবিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা কোণ
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত (জাতীয় পরিক্রমা)
পরীক্ষার খাতায় উচ্চ নম্বর নিশ্চিতকরণে উদ্ধৃতিযোগ্য তথ্য
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন: বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কিংবা ইংরেজি রচনায় (Essay) এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রতিষ্ঠান ও সাল ভূমিকা বা উপসংহারে উদ্ধৃতি (Quotation) হিসেবে জুড়ে দিলে খাতায় উচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
খবরাখবর বিশেষ একাডেমিক ফ্যাক্টশিট ও পরীক্ষা প্রস্তুতি সংকলন
সংবাদপত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন
পরি, সিংহ, হরিণের নকশায় সাজানো জমিদারদের পালঙ্ক, লম্বা ১২৩ ইঞ্চি
উৎস: প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়) • বিভাগ: জাতীয় পরিক্রমা

জাতীয় জাদুঘরে ঢুকলে চোখে পড়ে ইতিহাসের নানা নিদর্শন। কোথাও প্রাচীন মুদ্রা, কোথাও পাথরের ভাস্কর্য, কোথাও আবার রাজা-বাদশাহদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র। এসবের মধ্যে দর্শনার্থীদের আলাদা করে টানে প্রাচীন আমলের বিশাল সব পালঙ্ক। জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের ৩১ ও ৩২ নম্বর কাঠের শিল্পকর্ম গ্যালারিতে প্রদর্শিত আসবাবগুলো যেন অতীতের শিল্পবোধ ও আভিজাত্যের সাক্ষী।

জাদুঘরের দেওয়া তথ্যমতে, দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় এই দুই গ্যালারিতে। শিশু থেকে প্রবীণ, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেই কাঠের এই শিল্পকর্মের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। পালঙ্কের চোখজুড়ানো কারুকাজ, বিশাল আকার কিংবা এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাজকীয় জীবনের কৌতূহল—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে কাঠের এসব শিল্পকর্ম বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।

গত বুধবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরে পরিবার নিয়ে আসেন ব্যবসায়ী রাকিব হাসান। সন্তানদের পালঙ্ক দেখাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা তো পালঙ্ক দেখেনি, এখানে দেখাতে এসেছি। পরি, মৎস্যকন্যা, সিংহ, বাঘ দেখে ওরা অনেক খুশি হয়েছে।’

জাদুঘরের দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে নড়াইলের লোহাগড়া ও ফরিদপুরের জমিদারদের ব্যবহৃত দুটি পালঙ্ক। ফরিদপুরের জমিদারের ব্যবহৃত পালঙ্কটি ১৯৭৬ সালে সংগ্রহ করে জাতীয় জাদুঘর। উনিশ শতকে তৈরি এই পালঙ্কের দৈর্ঘ্য ১২৩ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২৭ ইঞ্চি। এর স্তম্ভ ও কাঠামোয় মানুষের অবয়ব, নারীমূর্তি এবং সিংহ, হরিণ ও হাতির অবয়ব খোদাই করা আছে।

অন্যদিকে, নড়াইলের লোহাগড়ার জমিদারের ব্যবহৃত পালঙ্কটি ১৯৭৮ সালে সংগ্রহ করা হয় লোহাগড়ার ইতনা গ্রাম থেকে। এটির দৈর্ঘ্য ১২৫ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০১ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ১৩৩ ইঞ্চি। বিক্রেতার দেওয়া তথ্যমতে, এটি লোহাগড়ার জমিদারের ব্যবহৃত ছিল। পালঙ্কটির চার কোনায় রয়েছে বিশাল আকৃতির প্যাঁচানো নকশার চারটি কাঠের স্তম্ভ। পায়াগুলো পরির আদলে তৈরি। পেছনের অংশে রয়েছে উদ্ভিজ্জ, ফুলেল ও লতাপাতার নকশা।

বাঙালি সংস্কৃতিতে লোকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা দারুশিল্প বা কাঠের খোদাই শিল্প। অলংকৃত পালঙ্ক এই শিল্পের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। পালঙ্ক শুধু ঘুমানো বা বিশ্রামের আসবাব নয়, এর নকশায় প্রকাশ পেত কারিগরদের দক্ষতা ও শিল্পবোধ। সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব রুচির ছাপও থাকত এসব আসবাবে।

খাট ও পালঙ্কের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বিভিন্ন নাম প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রাসিদ্ধি, সর্বসিদ্ধ, বিজয়া, অষ্টমঙ্গলা, জয়, মঙ্গল, প্রেয়ান, চিত্রকান্ত ও মঞ্চ। ‘যুক্তি কল্পতরু’ গ্রন্থে খাটকে দূরদর্শী, দীর্ঘদর্শী, দুর্লঙ্ঘ্য ও দুরাসদ—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব শ্রেণির খাট রাজাদের জন্য সুখকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলায় রাজা-বাদশাহ, জমিদার ও বিত্তশালীদের ঘরে পালঙ্ক ব্যবহার করা হতো। সে সময় ছেনি, হাতুড়ি ও বাটালি দিয়ে কাঠে ফুটিয়ে তোলা হতো নানা নকশা।

জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের সাবেক কিপার (পরিচালক) জিনাত মাহরুখ বানুর ‘বাংলাদেশের দারুশিল্প’ বইয়ে বলা হয়েছে, খাট-পালঙ্কের নির্মাণে শাস্ত্রীয় প্রভাব থাকলেও অলংকরণে শিল্পীর নিজস্ব শৈলীর প্রকাশ ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে বিদেশি বণিক ও পর্যটকদের আগমন এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর প্রভাবে বাংলার আসবাবশিল্পে পরিবর্তন আসে। উনিশ শতকের কয়েকটি পালঙ্কে ব্রিটিশ, রোমান, গ্রিক ও আরবি স্থাপত্য এবং শিল্পশৈলীর অনুকরণ দেখা যায়। তবে বাংলার সূত্রধরেরা এসব নকশায় নিজেদের শিল্পশৈলীও বজায় রেখেছিলেন।’জিনাত মাহরুখ বানু বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, যশোর, খুলনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলে একসময় উচ্চমানের অলংকৃত পালঙ্ক তৈরি হতো। জমিদার ও বিত্তবানদের বাড়িতে মাসিক চুক্তিতে কাজ করতেন সূত্রধরেরা। একেকটি পালঙ্ক তৈরি করতে দুই থেকে তিন বছরও লাগত। দীর্ঘস্থায়ী ও শৈল্পিক পালঙ্ক তৈরিতে কাঠের নির্বাচন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সেগুন, কাঁঠাল, গর্জন, জারুল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে পালঙ্ক তৈরি করা হতো।

‘বাংলাদেশের দারুশিল্প’ বইয়ে পালঙ্কের বিভিন্ন অংশের অলংকরণে কারুশিল্পীদের দক্ষতার বর্ণনা রয়েছে। রাজকীয় পালঙ্কের পায়ায় সিংহের থাবার আদলে ‘সিংহপায়া’ তৈরি করা হতো। খাটের মাথা ও পায়ার দিকে কাঠ খোদাই করে ত্রিমাত্রিক ও দ্বিমাত্রিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হতো। এসব নকশায় লতাপাতা, গোলাপ, কলকা, ময়ূর, হংসজোড়া ও পরির অবয়ব দেখা যেত।

জাতীয় জাদুঘরের কাঠের শিল্পকর্ম গ্যালারিতে খাট-পালঙ্ক ছাড়াও কাঠের অলংকৃত সিন্দুক, বেড়া, দরজা, পালকি, ঢেঁকি, সিংহাসন, চেয়ার ও নারী ভাস্কর্য প্রদর্শিত রয়েছে। জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের তথ্যমতে, বিভাগের স্টোরে ২১৪টি কাঠের শিল্পকর্ম রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি নিদর্শন দুটি গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে।

জাদুঘরে যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়: কাঠের তৈরি হওয়ায় আর্দ্রতার পরিবর্তন, ছত্রাক ও কীটপতঙ্গের আক্রমণে পালঙ্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব নিদর্শনের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, উপযুক্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ জরুরি।

এ বিষয়ে জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসমা ফেরদৌসি বলেন, ‘প্রতিটি নিদর্শন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। আমাদের নিজস্ব ল্যাব রয়েছে। সেখানে নিদর্শনগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

পাঠোত্তর প্রতিফলন ও সারসংক্ষেপ অনুশীলন (Active Recall)

প্রতিবেদনটি পড়া শেষ করার পর মূল ভাবটি নিজের ভাষায় ২-৩ বাক্যে লিখুন। এটি বিসিএস লিখিত ও ভর্তি পরীক্ষার ফোকাস রাইটিংয়ে আপনার নিজের ভাষায় উত্তর লেখার সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সরাসরি আপনার স্টাডি হাবে সংরক্ষিত হবে
সংরক্ষণ করতে লগইন করুন

পঠন মূল্যায়ন ও কুইজ (Active Recall Comprehension)

প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার বোধগম্যতা ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করুন

1টি প্রশ্ন
প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র:অনুচ্ছেদ ১ • মূল প্রেক্ষাপট

" জাতীয় জাদুঘরে ঢুকলে চোখে পড়ে ইতিহাসের নানা নিদর্শন।"

1. [জাতীয় পরিক্রমা ও সমকালীন পরিক্রমা] "পরি, সিংহ, হরিণের নকশায় সাজানো জমিদারদের পালঙ্ক,..." প্রতিবেদনের আলোকে আলোচিত প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য, সিদ্ধান্ত বা প্রেক্ষাপট কোনটি?