জাতীয় পরিক্রমালক্ষ্য: বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি

দিনাজপুর বোর্ডে অর্ধেকের বেশি ফেল, কেউ পাস করেননি ৪৯ কলেজে

রংপুর বিভাগের ৬৬৮টি কলেজ থেকে এবার ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন।

প
প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়)•৩১ অক্টো, ২০২৬•বিস্তারিত প্রতিবেদন
৩ মিনিট পাঠ

শিক্ষণীয় মূল বিষয়বস্তু (Exam Key Takeaways)

  • মূল সারসংক্ষেপ: দিনাজপুর বোর্ডে অর্ধেকের বেশি ফেল, কেউ পাস করেননি ৪৯ কলেজে। এর মূল চিত্র হলো— দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৯টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
  • প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ: বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, মানবিক বিভাগের ২৬ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৬৩ জন পাস করেছেন।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব: শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, নির্বাচন ও সাংবিধানিক কাঠামো সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান ও লিখিত পরীক্ষার জন্য তথ্যটি সহায়ক।

বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা তথ্য ছক (Exam Fact Sheet)

হাই-ইল্ড ডেটা

প্রিলিমিনারি নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত রচনায় কোটেশনযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান

ক্ষেত্র / সূচকসুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যানপরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা / প্রধান পক্ষকর্তৃপক্ষ ও মূল পক্ষ
দিনাজপুর সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজন
সংবিধিবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার, সুশাসন ও নির্বাহী কর্তৃত্ব
সুনির্দিষ্ট উপাত্ত / মূল সিদ্ধান্তউপাত্ত ও প্রধান সিদ্ধান্ত
শুধু তা–ই নয়, গত পাঁচ বছরে এবার বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম
সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ ও নীতিগত সিদ্ধান্তের তথ্য
কার্যকর সময়কাল / আইনি ভিত্তিআইনি ভিত্তি ও পটভূমি
চলতি অর্থবছর ও সমসাময়িক পরিক্রমা
সরকারি নীতি কার্যকর ও জাতীয় বাস্তবায়ন সময়রেখা
বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কোণবিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা কোণ
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত (জাতীয় পরিক্রমা)
পরীক্ষার খাতায় উচ্চ নম্বর নিশ্চিতকরণে উদ্ধৃতিযোগ্য তথ্য
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন: বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কিংবা ইংরেজি রচনায় (Essay) এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রতিষ্ঠান ও সাল ভূমিকা বা উপসংহারে উদ্ধৃতি (Quotation) হিসেবে জুড়ে দিলে খাতায় উচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
খবরাখবর বিশেষ একাডেমিক ফ্যাক্টশিট ও পরীক্ষা প্রস্তুতি সংকলন
সংবাদপত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন
দিনাজপুর বোর্ডে অর্ধেকের বেশি ফেল, কেউ পাস করেননি ৪৯ কলেজে
উৎস: প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়) • বিভাগ: জাতীয় পরিক্রমা

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৯টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। শুধু তা–ই নয়, গত পাঁচ বছরে এবার বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এবার বোর্ডের ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন।

আজ শনিবার সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর আবদুর রাজ্জাক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ সময় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বোরহান উদ্দিন, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জহুরুল ইসলাম প্রামাণিক, জহিরুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৬৬৮টি কলেজ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন পাস করেছেন; অর্থাৎ ৫৪ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।

গত পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সালে দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর প্রতিবছর পাসের হার কমেছে। ২০২২ সালে ৭৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। একইভাবে ২০২১ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৩৪৯ জন। ২০২২ সালে ১১ হাজার ৮৩০ জন, ২০২৩ সালে ৬ হাজার ৪৫৯ জন, ২০২৪ সালে ১৪ হাজার ২৯৫ জন ও ২০২৫ সালে ৬ হাজার ২৬০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জনে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, মানবিক বিভাগের ২৬ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৬৩ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগের ৭৮ হাজার ৩৪৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩১ হাজার ২৮৬ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭ হাজার ১৩৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৪৯ জন পাস করেছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে ২ হাজার ৯৪ জন, মানবিক বিভাগে ৭৯২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

এবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা। মোট ৫৩ হাজার ৫০৮ জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২২ হাজার ১০৬ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ৬০ হাজার ২৮ জন মেয়ের মধ্যে পাস করেছেন ২৯ হাজার ২৯২ জন। পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬। মোট পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৫৭০ জন মেয়ে ও ১ হাজার ৩৮৩ জন ছেলে জিপিএ–৫ পেয়েছেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আট জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে আছে রংপুর জেলা। এ জেলায় ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। সবচেয়ে কম পাসের হার পঞ্চগড়ে, ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্য জেলাগুলোর মধ্যে নীলফামারীতে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, লালমনিরহাটে ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৪৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, কুড়িগ্রামে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং গাইবান্ধায় পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও শীর্ষে রংপুর জেলা। এ জেলায় ১ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সবচেয়ে কম ৫১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন পঞ্চগড়ে। এ ছাড়া নীলফামারীতে ৫৬১ জন, দিনাজপুরে ৪৭৬ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭৮ জন, গাইবান্ধায় ১৭৩ জন, কুড়িগ্রামে ১৩৬ জন ও লালমনিরহাটে ১০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

এবার দিনাজপুর বোর্ডের ৮ জেলার ৬৬৮টি কলেজের মধ্যে ৪৯টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে রংপুর জেলার ৩টি, দিনাজপুরের ৬টি, ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি, নীলফামারীর ১২টি, গাইবান্ধার ২টি, লালমনিরহাটের ৬টি, কুড়িগ্রামের ৯টি ও পঞ্চগড়ের ২টি কলেজ আছে।

গত পাঁচ বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিবছরই কেউ পাস না করা কলেজের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২১ সালে এমন কলেজ ছিল ২টি, ২০২২ সালে ১৩টি, ২০২৩ সালে ১৬টি, ২০২৪ সালে ২০টি ও ২০২৫ সালে ৪৩টি। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে।

দিনাজপুর বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার বিষয়টিকে তাঁরা শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছেন। কেউ পাস না করা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বলেন, এ নিয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কীভাবে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমানো যায়, এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে না; সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের ডেকে সরাসরি ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে।

পাঠোত্তর প্রতিফলন ও সারসংক্ষেপ অনুশীলন (Active Recall)

প্রতিবেদনটি পড়া শেষ করার পর মূল ভাবটি নিজের ভাষায় ২-৩ বাক্যে লিখুন। এটি বিসিএস লিখিত ও ভর্তি পরীক্ষার ফোকাস রাইটিংয়ে আপনার নিজের ভাষায় উত্তর লেখার সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সরাসরি আপনার স্টাডি হাবে সংরক্ষিত হবে
সংরক্ষণ করতে লগইন করুন

পঠন মূল্যায়ন ও কুইজ (Active Recall Comprehension)

প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার বোধগম্যতা ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করুন

1টি প্রশ্ন
প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র:অনুচ্ছেদ ১ • মূল প্রেক্ষাপট

" দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৯টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।"

1. [শিক্ষা ও জাতীয় মূল্যায়ন পদ্ধতি] উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের (HSC) পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত ও মেধা মূল্যায়নে বাংলাদেশে কোন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসৃত হয়?