Copyright: Any unauthorized use or reproduction of The Daily Star content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
ছোটবেলায় পরিবারের অভাব মেটাতে জুতো পালিশ করেছেন, রাস্তায় বিক্রি করেছেন চীনাবাদাম। জীবনের আরেক পর্যায়ে কারখানায় কাজ করতে গিয়ে হারিয়েছেন বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল। শ্রমিকের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেমে জেলেও গেছেন। একসময় দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হয়েছিলেন। সেই মানুষটিই বারবার ফিরে এসেছেন রাজনীতির ময়দানে।
এবার চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ডানপন্থি ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও দেশটির ক্ষমতায় ফিরেছেন ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থি নেতা।
তার বিজয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলে ফিরলো বাম-ধারা। যেন ‘রক্ষা’ পেল লাতিন আমেরিকার ‘শেষ বাম-দুর্গ’।
বিবিসির তথ্য বলছে, এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয় পেলেন লুলা। ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরেন।
তবে এবারের জয় সহজে আসেনি। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে লুলার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলসোনারো। ডানপন্থি এই প্রার্থীর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আশীর্বাদ’ ছিল। তবে মাত্র ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে সেই ফল উল্টে জয়ী হওয়া ছিল লুলার জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম দফার পর হতাশায় পড়া সমর্থকদের আবারও উজ্জীবিত করে নির্বাচনী কৌশল বদলে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ৪৪ লাখেরও বেশি ভোট বেশি পেয়ে বা ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন লুলা।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে সামরিক শাসনের অবসানের পর প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত ভোটে জয়ী হননি। লুলার এই জয় সেই ধারায় ব্যতিক্রম তৈরি করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় এক কোটি অতিরিক্ত ভোট নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হন লুলা।
এই প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য মিনাস জেরাইস। প্রথম দফায় সেখানে ৫ লাখ ৯০ হাজার ভোটে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফায় কৌশলগত প্রচারণার মাধ্যমে ৯৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান বর্ষীয়ান এই নেতা।
ভোটারদের কেন্দ্রে আনা ও ভোটদানের হার বাড়ানোর কৌশলও কাজে দেয়। প্রথম দফায় ২১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলেও দ্বিতীয় দফায় এ হার কমে ১৯ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। এতে লুলার সমর্থকদের আরও বেশি সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে আনা সম্ভব হয়।

