চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গ্রুপভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারে এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে গ্রুপভিত্তিক ফলাফলের সকল বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে।
গ্রুপভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের গড় হার সবচেয়ে বেশি— ৭৩.১২ শতাংশ। এর বিপরীতে মানবিক বিভাগে গড় পাসের হার ৪২.১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০.৭৭ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগ : বিজ্ঞান বিভাগে মোট ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২ লাখ ৭৪ জন। বিজ্ঞানে ছাত্রদের পাসের হার ৭১.৬০ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার ৭৪.৫৫ শতাংশ। বিজ্ঞানে ছাত্রীদের পাসের সাফল্য সামগ্রিক গ্রুপভিত্তিক ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন। এ গ্রুপে গড় পাসের হার ৫০.৭৭ শতাংশ। এখানে ছাত্রদের পাসের হার ৪৫.৯৪ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬.৫৮ শতাংশ।
মানবিক বিভাগ : সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়া মানবিক বিভাগে পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। মোট ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন; পাসের গড় হার ৪২.১৭ শতাংশ। মানবিকে ছাত্রীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। মানবিকে ছাত্রদের পাসের হার মাত্র ৩৫.০১ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার ৪৭.৪৯ শতাংশ। খবর বাসসের।
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শেখায় যে ঘাটতি ছিল, সেটা পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আজ শনিবার সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
গতবারের চেয়ে পাসের হার আরও কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রথমত এই কমে যাওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়। শিখনপদ্ধতিতে ঘাটতি রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যে ঘাটতি রয়েছে সেটা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, এটা তাঁদের দায়িত্ব।
প্রকাশিত ফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ফলাফলে ত্রুটি আছে কি না তা পুনর্মূল্যায়নের পর বোঝা যাবে।
আগামী দিনে আরও স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান সঠিকভাবে যেন মূল্যায়িত হয়, কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়।
অনুষ্ঠানের ফলাফলের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে ৩২ হাজার ৯২ জন।
গত বছর (২০২৫ সালে) পুনর্নিরীক্ষণের পর ৭২ হাজার ১৭৬ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ বছর ১২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
গত বছরের (২০২৫ সালে) পরীক্ষায় প্রথমে ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। পরে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়ে জিপিএ-৫ হয়। এতে মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ হাজার ১৭৬ জনে। সে হিসাবে গত বছরের চূড়ান্ত ফলের তুলনায় এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে এগিয়ে আছেন ছাত্রীরা। তবে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ–৫ পাওয়ার দিক দিয়ে ছাত্রীরা পিছিয়ে আছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এ বছর ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীন পরীক্ষা দিয়েছিল ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
মোট পাস করা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে এবার পাস করা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন। আর ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
এ বছরের (২০২৬ সাল) উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে।
এদিকে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি। প্রকাশিত ফলাফলে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রদের ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ ফেল করেছেন। ছাত্রীদের ফেল করার হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী।
ছাত্রদের ফেল করার হার ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এ হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের অকৃতকার্য হওয়ার হার ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আর পাসের হারে পিছিয়ে আছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
আজ শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন শুধু এইচএসসি পরীক্ষায় গড় ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সামান্য বেশি।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, কারগরি শিক্ষা বোর্ড পাসের হার ৪৯ দমশিক ৪৩ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন।
গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার দেখল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। গত বছর পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১ জন।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম ছাড়া কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
দেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয় ২০১২ সালে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর ২০২০ সালে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেন। করোনাকালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ওই বছরের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২২ সালে ৭৮ দশমিক ৮, ২০২৩ সালে ৭৪, ২০২৪ সালে ৭০ দশমিক ৪ এবং ২০২৫ সালে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। এবার তা আরও কমে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে নেমেছে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেন নি। মানে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি।
গত বছর শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ৬৫টি।
এদিকে এ বছরের (২০২৬ সাল) উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ১১ টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে কেবল ফেল করা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এবারে এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।
আজ শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানেই মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।
বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে এক বছর পর (পরের বছরের পরীক্ষায়) আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়তি মানসিক চাপও তৈরি হয়।
এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফল উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ও অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে।
এ বছরের (২০২৬ সাল) উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনলাইনে রেজাল্ট পোর্টাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যম ও মুঠোফোনে এসএমএস বা খুদে বার্তায় ফলাফল পাবেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হবে শনিবার, ৩১ অক্টোবর। বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ও অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে।
এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনলাইনে রেজাল্ট পোর্টাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যম ও মুঠোফোনে এসএমএস বা খুদে বার্তায় ফলাফল পাবেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
তবে মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল জানার নম্বর পরিবর্তন করেছে শিক্ষা বোর্ড। এর আগের বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা গেলেও এবার ২০২৬ সালে নতুন নম্বর ১৬১৪০-এ এসএমএস পাঠাতে হবে শিক্ষার্থীদের।
বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহের পাশাপাশি ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য ওই ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের (প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নম্বর) মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দিয়েছে বোর্ড।
এ ছাড়া পরীক্ষার্থীরা যেকোনো মুঠোফোন নম্বর থেকে ১৬১৪০ (16140) নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। খুদে বার্তার মাধ্যমে ফলাফল জানতে HSC বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর রোল নম্বর পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ (16140) নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ: HSC Dha 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই ২০২৬। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে।
তিন উপায়ে ফলাফল দেখতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।
এর মাধ্যমে দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে থাকা ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থীর আড়াই মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রথমে ২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল। পরে তারিখ পরিবর্তন করে শনিবার নির্ধারণ করা হয়।আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য ওই ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের (প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নম্বর) মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। পরীক্ষার্থীরা ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন।
এ ছাড়া পরীক্ষার্থীরা যেকোনো মুঠোফোন নম্বর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। উদাহরণ: HSC Dha 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।


