২০০৬ সাল, সেই বছরের ২৮শে অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ ঘিরে রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকা।
লাঠি-সোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সেখানে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দল দু'টির নেতাকর্মীরা।
সেদিন ঢাকার রাস্তায় যেভাবে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, সেটি দেখে অনেকেই 'স্তম্ভিত' হয়েছিলেন বলে তখনকার গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকায় সেদিনের সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন প্রাণ হারান, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
সেসময়ের পত্রপত্রিকার তথ্যমতে, কেবল ২৮শে অক্টোবরের সহিংসতাতেই সারা দেশে প্রায় এক ডজন মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হন।
এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি কেএম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে অপারগতা প্রকাশ করলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
আড়াই মাসের মাথায় সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। সেনা সমর্থিত ওই সরকার পরবর্তীতে 'ওয়ান-ইলেভেন সরকার' নামেও পরিচিতি পায়।
কিন্তু এসব ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কোথা থেকে? আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যকার সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটই-বা তৈরি হয়েছিল কীভাবে?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ওই সময় বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের শেষদিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইস্যুতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।


