Copyright: Any unauthorized use or reproduction of The Daily Star content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে আসছেন। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অবকাঠামো, শিল্প, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতও হতে পারে বাংলাদেশ- জাপান সহযোগিতার একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্র। বিশেষ করে জাপানের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, জনসংখ্যাভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বাংলাদেশে নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন অবশ্যই জরুরি। কিন্তু আমাদের একটি মৌলিক প্রশ্ন করা প্রয়োজন: আমরা কি শুধু হাসপাতালের শয্যা বাড়াব, নাকি প্রতিরোধযোগ্য রোগের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনও কমাব?
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ অনেক অসংক্রামক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে গুরুতর জটিলতা ও ব্যয়বহুল হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সব হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধ করা যায় না। তবে প্রতিরোধযোগ্য জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার আগাম শনাক্তকরণ ও ধারাবাহিক পরিচর্যার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
জাপান ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা: পার্থক্য কোথায়?
জাপান বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু জনগোষ্ঠীর দেশ। সেখানে গড় আয়ু প্রায় ৮৪ বছর। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ বছর। জাপানে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালু রয়েছে ১৯৬১ সাল থেকে।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বড় একটি অংশের ব্যয় মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট চলতি স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ব্যক্তিগত পকেট থেকে আসে, যা অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ।
জাপানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম শিক্ষা হলো, চিকিৎসা শুধু অসুস্থ হওয়ার পর শুরু হয় না। কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, বয়সভিত্তিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যবিমার মাধ্যমে সেবা গ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির। বিশেষ করে ২০০৮ সাল থেকে চালু থাকা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ কর্মসূচি ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেয়।
তবে জাপানের ব্যবস্থাও নিখুঁত নয়। বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি, চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও স্বাস্থ্যতথ্য বিনিময়ের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত জাপানের পুরো ব্যবস্থা অনুকরণ করা নয়; বরং গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে কার্যকর পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করে বাংলাদেশের বাস্তবতায় উপযোগী একটি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।


