আন্তর্জাতিক সম্পর্কলক্ষ্য: বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি

মুঘল সাম্রাজ্যের 'শ্রেষ্ঠ' নারী বণিক মরিয়ম-উজ-জামানি, যার ক্ষতি করার মূল্য দিতে হয়েছিল পর্তুগিজ ও ব্রিটিশদের

১৬১৩ সালে লোহিত সাগরে পর্তুগিজ বণিকরা সব থেকে বড় ভারতীয় জাহাজ 'রহিমি'র পথ অবরোধ করে এবং আটক করে নিয়ে যায়। এই জাহাজের মালিক ছিলেন মরিয়ম-উজ-জামানি নামে এক নারী।

BBC
বিবিসি বাংলা (আন্তর্জাতিক ও বিজ্ঞান)•১ নভে, ২০২৬•বিস্তারিত প্রতিবেদন
৩ মিনিট পাঠ

শিক্ষণীয় মূল বিষয়বস্তু (Exam Key Takeaways)

  • মূল সারসংক্ষেপ: মুঘল সাম্রাজ্যের 'শ্রেষ্ঠ' নারী বণিক মরিয়ম-উজ-জামানি, যার ক্ষতি করার মূল্য দিতে হয়েছিল পর্তুগিজ ও ব্রিটিশদের। এর মূল চিত্র হলো— লোহিত সাগরে পর্তুগিজ বণিকরা সব থেকে বড় ভারতীয় জাহাজ 'রহিমি'র পথ অবরোধ করে এবং আটক করে গোয়া নিয়ে যায়।
  • প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ: ঐতিহাসিক রুবি লাল এবং ইরা মুখোটির মতে, আকবরের প্রিয় এবং প্রভাবশালী স্ত্রী হারখাবাঈ সেকালের অন্যতম ধনী নারী ছিলেন।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্ব পরাশক্তি সমীকরণ ও বহুপাক্ষিক ফোরাম বিশ্লেষণে এ জাতীয় উন্নয়ন নিয়মিত আলোচনায় আসে।

বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা তথ্য ছক (Exam Fact Sheet)

হাই-ইল্ড ডেটা

প্রিলিমিনারি নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত রচনায় কোটেশনযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান

ক্ষেত্র / সূচকসুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যানপরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা / প্রধান পক্ষকর্তৃপক্ষ ও মূল পক্ষ
জাতিসংঘ (United Nations) ও সাধারণ পরিষদ
সংবিধিবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার, সুশাসন ও নির্বাহী কর্তৃত্ব
সুনির্দিষ্ট উপাত্ত / মূল সিদ্ধান্তউপাত্ত ও প্রধান সিদ্ধান্ত
বরাদ্দ / আর্থিক পরিমাণ: ৫০ কোটি টাকা
বাজেট, অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত উপাত্ত
কার্যকর সময়কাল / আইনি ভিত্তিআইনি ভিত্তি ও পটভূমি
চলতি অর্থবছর ও সমসাময়িক পরিক্রমা
সরকারি নীতি কার্যকর ও জাতীয় বাস্তবায়ন সময়রেখা
বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কোণবিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা কোণ
বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও রচনায় কোটেশনযোগ্য ডেটা
বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও ইংরেজি essay রচনায় তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন: বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কিংবা ইংরেজি রচনায় (Essay) এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রতিষ্ঠান ও সাল ভূমিকা বা উপসংহারে উদ্ধৃতি (Quotation) হিসেবে জুড়ে দিলে খাতায় উচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
খবরাখবর বিশেষ একাডেমিক ফ্যাক্টশিট ও পরীক্ষা প্রস্তুতি সংকলন
সংবাদপত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন
মুঘল সাম্রাজ্যের 'শ্রেষ্ঠ' নারী বণিক মরিয়ম-উজ-জামানি, যার ক্ষতি করার মূল্য দিতে হয়েছিল পর্তুগিজ ও ব্রিটিশদের
উৎস: বিবিসি বাংলা (আন্তর্জাতিক ও বিজ্ঞান) • বিভাগ: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

ছবির উৎস, Universal Images Group via Getty Images

সালটা ১৬১৩, বর্ষাকাল মাত্রই তখন শেষ হয়েছে। লোহিত সাগরে পর্তুগিজ বণিকরা সব থেকে বড় ভারতীয় জাহাজ 'রহিমি'র পথ অবরোধ করে এবং আটক করে গোয়া নিয়ে যায়। এই জাহাজের মালিক ছিলেন মরিয়ম-উজ-জামানি নামে এক নারী।

মরিয়ম-উজ-জামানি অবশ্য তার উপাধি ছিল, আসল নাম ছিল 'হরখাবাঈ'। এই রাজপুত রাজকন্যার গল্প বেশ আকর্ষণীয়।

১৫৬২ সালে, হরখাবাঈ-এর সঙ্গে তৃতীয় মুঘল সম্রাট জালালুদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের বিয়ে হয়। কিছুদিন পর এই দম্পতির এক পুত্র সন্তান হয়, যার নাম ছিল নুরুদ্দীন মোহাম্মদ।

এই উপলক্ষে আকবর হরখাবাঈকে 'মরিয়ম-উজ-জামানি' উপাধিতে ভূষিত করেন। তাদের পুত্র নুরুদ্দিন মুহাম্মদই পরবর্তীকালে 'জাহাঙ্গীর' উপাধি দিয়ে মুঘল সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।

ঐতিহাসিক রুবি লাল এবং ইরা মুখোটির মতে, আকবরের প্রিয় এবং প্রভাবশালী স্ত্রী হারখাবাঈ সেকালের অন্যতম ধনী নারী ছিলেন।

'আমেরিকান ওরিয়েন্টাল সোসাইটি'র জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র 'দ্য ক্যাপচার অব মরিয়ম-উজ-জামানি'স শিপ: মুঘল উইমেন অ্যান্ড ইউরোপিয়ান ট্রেডার্স'-এ অ্যালিসন ব্যাংকস ফাইন্ডলি উল্লেখ করেছেন, মরিয়ম-উজ-জামানিকে মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী বণিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি ১৬২৩ সালে তার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজমাতার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে পর্তুগিজরা তার মা মরিয়ম-উজ-জামানির মালিকানাধীন জাহাজ 'রহিমি' জব্দ করেছিল। জাহাজে পর্তুগিজ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও, তারা সব মালামাল এবং সেখানে থাকা প্রায় ৭০০ জন যাত্রীকে আটক করে।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ইরা মুখোটি 'ডটারস অব দ্য সান: এমপ্রেস, কুইনস অ্যান্ড বেগমস অব দ্য মুগল এমপায়ার' বইয়ে উল্লেখ করেছেন 'রহিমি' শুধু বণিক জাহাজই ছিল না, হজের জন্যও তা ব্যবহার করা হতো।

এটা ভারতের সুরাট বন্দর থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে মক্কার দক্ষিণে লোহিত সাগরের মোহনায় আরবের বন্দর মোখায় সফর করত। ইউরোপে 'দ্য গ্রেট পিলগ্রিম শিপ' নামে পরিচিত ছিল এই জাহাজ।

'রহিমি'র মাধ্যমে ভারত থেকে নীল, তুলা, রেশম, চামড়া, ধাতু, কার্পেট, মশলা, আফিম ও রত্ন রপ্তানি করা হতো। সোনা, রূপা, হাতির দাঁত, মুক্তো, অ্যাম্বার, সুগন্ধি, মদ, মাটির পাত্র এবং কাচের পাত্র ভারতে আনা হতো।

এর মধ্যে কিছু পণ্য রাজপরিবারের নারীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের একটা বিষয় ছিল।

ইতিহাসবিদ মুখোটির মতে, "মরিয়ম-উজ-জামানির আরো অনেক জাহাজ ছিল, তবে 'রহিমি' সমুদ্রযাত্রার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল"। সেই সময়, ভারত মহাসাগরে বৃহত্তম জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল এটি।

"এই জাহাজের ১৫০০ যাত্রী বহন করার ক্ষমতা ছিল এবং এক লাখ পাউন্ড মূল্যের কার্গো বহন করতে পারতো। বর্তমান সময়ে এর (এই পরিমাণ কার্গো বহনের) মূল্য ভারতীয় অর্থে ৫০ কোটি টাকা বা পাকিস্তানি অর্থে ২৫০ কোটি টাকা হবে।"

"সম্রাজ্ঞী মরিয়ম-উজ-জামানি বাণিজ্যের জন্য অসংখ্য এজেন্ট, দালাল এবং আর্থিক উপদেষ্টা নিয়োগ করেছিলেন।"

ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে

উইলিয়াম ফস্টারের বই 'আর্লি ট্রাভেলস' অনুযায়ী রাজদরবারের চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মধ্যে একজন ছিলেন মরিয়ম-উজ-জামানি, যাদের ১২ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য রাখার অধিকার ছিল।

এই চারজনের মধ্যে সম্রাট নিজেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মরিয়ম-উজ-জামানি ছিলেন একমাত্র নারী।

প্রতি বছর নওরোজ উৎসবের সময়, অভিজাত ব্যক্তিরা নিজ নিজ পদমর্যাদা অনুযায়ী তাকে মূল্যবান পাথর উপহার দিতেন।

মরিয়ম-উজ-জামানিকে সরকারি ফরমান জারি করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল। যদিও, এই অধিকার সে সময় শুধু সম্রাটের কাছেই থাকত।

ইরা মুখোটির মতে, মরিয়ম-উজ-জামানি তার সম্পদ এবং প্রভাব বাগান, কূপ এবং মসজিদ তৈরির জন্য ব্যবহার করেছিলেন।

সৈয়দ মুহাম্মদ লতিফের বই 'লাহোরের ইতিহাস' অনুযায়ী তিনি ১৬১৪ সালে মরিয়ম-উজ- জামানি বা বেগম শাহী মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদ লাহোরের পুরাতন শহরের ১২টা ঐতিহাসিক গেটের মধ্যে একটা, মস্তি দরওয়াজার কাছে অবস্থিত। লাহোর দুর্গের আকবরী গেটও এই অঞ্চলের কাছাকাছি।

ইতিহাসবিদরা মনে করেন মরিয়ম-উজ-জামানির চেয়ে দক্ষ ও উদ্যোগী ব্যবসায়ী অন্য কোনো রাজবংশীয় নারী ছিলেন না। তবে তার মতো অন্য কারো বাণিজ্যিক জাহাজকে এত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে দেখা যায়নি।

ইতিহাসবিদ ফস্টারের মতে, ১৬০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মরিয়ম-উজ-জামানির জাহাজ মোখার (ইয়েমেনের একটি বন্দর) উদ্দেশে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পর্তুগিজরা হুমকি দিয়েছিল যে লাইসেন্সের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ না দিলে ওই জাহাজ গুজরাতের দিউ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

ক্রমে সংঘাত এড়াতে দুই পক্ষই তুলনামূলকভাবে অল্প পরিমাণ অর্থ দেওয়ার বিষয়ে রাজি হয়।

পরবর্তীকালে, ১৬১০ সালের শেষ বা ১৬১১ সালের গোড়ার দিকে, এই জাহাজই আবার মোখায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কার্গো বোঝাই করা হয়েছিল। সেই সময়, মরিয়ম-উজ-জামানি তার এক এজেন্টকে আগ্রা থেকে ৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটা বড় নীল উৎপাদন কেন্দ্রে নীল সংগ্রহ করে একটা জাহাজে করে তা পাঠাতে বলেন।

ফস্টার তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, "কিন্তু ওই চুক্তি যখন শেষ হওয়ার পথে, ঠিক তখনই ইংরেজ বণিক উইলিয়াম ফিঞ্চ এসে উপস্থিত হন এবং একটু বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনে নেন।"

"মরিয়ম-উজ-জামানি যখন জানতে পারেন যে একজন ইংরেজ তার চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনেছেন, তখন তিনি খুব রেগে গিয়েছিলেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে রাজদরবারে ব্রিটিশ প্রতিনিধি উইলিয়াম হকিন্সকে দীর্ঘদিন যাবত সমস্যায় পড়তে হয়েছিল"।

উইলিয়াম ফিঞ্চের ওই পদক্ষেপ জাহাঙ্গীরের দরবারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভবিষ্যতের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছিল। এর প্রভাব এতটাই সুদূরপ্রসারী ছিল যে, ১৬১২ সালে ইংরেজ ক্যাপ্টেন জার্ডিন লিখেছিলেন, "রানির জাহাজ 'রহিমি' মোখার উদ্দেশে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু আমরা (ইউরোপীয়রা) চলে না যাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বণিকরা তাদের পণ্য জাহাজে তুলতে রাজি ছিল না।"

এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, একজন ধনী বণিক এবং মুঘল রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার পরও মরিয়ম-উজ-জামানি বাণিজ্য সংক্রান্ত বিপদ থেকে মুক্ত ছিলেন না।

মি. ফিন্ডলির মতে, আকবরের শাসনামলে পর্তুগিজদের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল এবং এই সম্পর্ক জাহাঙ্গীরের শাসনকালেও অব্যাহত ছিল।

কিন্তু ইতিহাসবিদ মুখোটি লিখেছেন যে, জাহাঙ্গীরের শাসনকালে মুঘল দরবারে অন্যান্য ইউরোপীয় বণিক, বিশেষত ব্রিটিশদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় পর্তুগিজরা তাদের আধিপত্য হারানোর আশঙ্কা করতে শুরু করে।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নথি অনুসারে, মুঘল দরবার থেকে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরানোর জন্য সম্রাটের উপর চাপ তৈরি করতে পর্তুগিজরা জাহাঙ্গীরের মা মরিয়ম-উজ-জামানির জাহাজকে নিশানা করতে শুরু করে যা সম্রাটের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছিল।

ছবির উৎস, Universal Images Group/Getty Images

ইতিহাসবিদ ফিন্ডলি লিখেছেন, যখন এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ওই জাহাজ উদ্ধার করা যাবে না, তখন জাহাঙ্গীর ভারতের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের জন্য বৃহত্তম বন্দর সুরাট থেকে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করার এবং পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দামান শহর দখল ও অবরোধ করার আদেশ দেন।

রবার্ট ওম্রে তার বই 'হিস্টোরিকাল ফ্র্যাগমেন্টস অব দ্য মুঘল এম্পায়ার'- এ লিখেছেন যে পর্তুগিজরা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। এরপর তারা জাহাজের ক্ষতির জন্য মুঘল সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে এবং "লোহিত সাগরের দিকে সফররত স্থানীয় জাহাজগুলোকে কিছু অতিরিক্ত লাইসেন্স দিতে" রাজি হয়।

কিন্তু এই চুক্তির শর্ত ছিল ব্রিটিশদের বহিষ্কার করা হোক। জাহাঙ্গীর এই শর্ত মানতে রাজি হননি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে থাকা উইলিয়াম ফস্টারের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, শেষপর্যন্ত সম্রাট জাহাঙ্গীর যে চুক্তি করেছিলেন তাতে লেখা ছিল পর্তুগিজদের "জব্দ করা জাহাজের বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দিতে হয়েছিল"।

তবে, ব্রিটিশদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি স্থগিত করেন, কারণ জাহাঙ্গীর ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিলেন যে সমুদ্র পথে ব্রিটিশদের শক্তি কতটা।

"পর্তুগিজরা মরিয়ম-উজ-জামানির জাহাজ জব্দ করার পর দু'পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের একটা বড় পরিবর্তন আসে। এই ঘটনায় ব্রিটিশরা অনেক উপকৃত হয়েছিল।"

"সম্রাটের মা একজন উদ্যমী নারী ছিলেন এবং সে কারণেই সম্রাট পর্তুগিজদের এই জায়গা থেকে তাড়িয়ে দেন।"

মরিয়ম-উজ-জামানি তার বৃহত্তম জাহাজ 'রাহিমি' হারানোর পরও বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হজ যাত্রার জন্য অন্যান্য জাহাজ পরিচালনার কাজ চালিয়ে যান।

প্রসূন চট্টোপাধ্যায় তার বই 'জেন্ডার অ্যান্ড ট্র্যাভেল রাইটিং ইন ইন্ডিয়া'-তে লিখেছেন যে তার জাহাজের পুরো বহর ছিল।

মি. ফস্টার-সহ বেশ কয়েকজন ইতিহাসবিদের মতে ১৬১৭ সালে লোহিত সাগর থেকে ফেরার সময় মরিয়ম-উজ-জামানির একটা জাহাজ দখল করার চেষ্টা করেছিল দুই ইংরেজ জলদস্যু। ওই জাহাজে বেশ কয়েকজন হজযাত্রী ছিলেন, পাশাপাশি মূল্যবান জিনিসপত্রও ছিল। তবে যথাসময়ে সেই জাহাজ উদ্ধার করা হয়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজের বহর যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ না করত, তাহলে এই ঘটনার ফলে ইংরেজ বাণিজ্যের জন্য ভারতের ব্যস্ততম বাজার বন্ধ হয়ে যেত।

'জার্নাল অব ইন্ডিয়ান স্টাডিজ'-এ আয়েশা সফদর ও মোহাম্মদ আজম খানের গবেষণা অনুযায়ী, 'রহিমি' হারানোর পর রাজমাতা আরও বড় একটা জাহাজের অর্ডার দিয়েছিলেন।

এটাতে ৬২টা কামান রাখা হয়েছিল এবং ৪০০ও বেশি গোলন্দাজ মোতায়েন করা হয়েছিল। এর নাম দেওয়া হয়ে 'গঞ্জ-ই সাওয়াই'। এটাকে সে সময়ের সমুদ্রের সবচেয়ে বিপজ্জনক জাহাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

এর উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য ও হজযাত্রীদের মক্কায় নিয়ে যাওয়া। জাহাজ ফেরার পথে হজযাত্রীদের নিয়ে আসতো এবং পণ্যের বিনিময়ে সোনা ও রূপা পেতো।

পরবর্তীকালে, আওরঙ্গজেব আলমগীরের রাজত্বকালে, ১৬৯৫ সালের সাতই সেপ্টেম্বর, মোখা থেকে সুরাটে আসার সময় ওই জাহাজ দখল করে ইংরেজ জলদস্যু হেনরি অ্যাভেরি।

'রয়্যাল মুঘল লেডিস অ্যান্ড দেয়ার কন্ট্রিবিউশনস' বইয়ের লেখক সোমা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মরিয়ম-উজ-জামানিকে উপমহাদেশের প্রথম এমন এক নারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় যিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিয়মিত ব্যবসা করতেন।

ঐতিহাসিক ফিন্ডলি লিখেছেন, "একজন সফল বণিক ও উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি প্রসারিত বৈদেশিক বাণিজ্যে মুঘল নারীদের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। নূর জাহান ও জাহানারা বেগম-সহ মুঘল সাম্রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে মরিয়ম-উজ-জামানিকেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।"

ডার্ক কলিয়ার তার বই 'এম্পেররস রাইটিংস: মেমোরিজ অব আকবর দ্য গ্রেট'-এ লিখেছেন যে তিনি রেশম এবং বিভিন্ন ধরনের মশলার বিশাল বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রসারিত করেছিলেন। উপসাগরীয় দেশ-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যও তার গোচরে ছিল।

"মরিয়ম-উজ-জামানির বাণিজ্যে আকবরের বিশেষ আগ্রহ ছিল। তার ব্যবসায়িক উদ্যোগে সময় এবং মূলধন বিনিয়োগ করেছেন আকবর। প্রায়শই তিনি তার সঙ্গে দীর্ঘ ব্যবসায়িক আলোচনা করতেন।"

বাম্বার ও ক্রিস্টিনা গ্যাসকিন তাদের বই 'দ্য গ্রেট মুঘলস'-এ লিখেছেন যে, মরিয়ম-উজ-জামানির এই উত্তরাধিকার এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহান, এবং মুঘল সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজ মহলের কন্যা ও আওরঙ্গজেবের বড় বোন জাহানারা বেগম। তারা বৈদেশিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়ও অংশ নিয়েছিলেন।

পাঠোত্তর প্রতিফলন ও সারসংক্ষেপ অনুশীলন (Active Recall)

প্রতিবেদনটি পড়া শেষ করার পর মূল ভাবটি নিজের ভাষায় ২-৩ বাক্যে লিখুন। এটি বিসিএস লিখিত ও ভর্তি পরীক্ষার ফোকাস রাইটিংয়ে আপনার নিজের ভাষায় উত্তর লেখার সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সরাসরি আপনার স্টাডি হাবে সংরক্ষিত হবে
সংরক্ষণ করতে লগইন করুন

পঠন মূল্যায়ন ও কুইজ (Active Recall Comprehension)

প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার বোধগম্যতা ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করুন

1টি প্রশ্ন
প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র:অনুচ্ছেদ ১ • মূল প্রেক্ষাপট

" ছবির উৎস, Universal Images Group via Getty Images সালটা ১৬১৩, বর্ষাকাল মাত্রই তখন শেষ হয়েছে।"

1. [নগর যোগাযোগ ও সরকারি নীতিমালা] মহানগর এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অননুমোদিত তিন চাকার যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি কোন বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে?