প্রচ্ছদ/অর্থনীতি ও বাণিজ্য/বিসিএস প্রিলি ও লিখিত: অর্থনীতি
অর্থনীতি ও বাণিজ্যলক্ষ্য: বিসিএস প্রিলি ও লিখিত: অর্থনীতি, সুশাসন ও আন্তর্জাতিক পরিক্রমা

ব্যাংক খাত ঠিক হবে তো?

মতামত...

প
প্রথম আলো•২৯ অক্টো, ২০২৬•বিস্তারিত প্রতিবেদন
৩ মিনিট পাঠ

শিক্ষণীয় মূল বিষয়বস্তু (Exam Key Takeaways)

  • মূল সারসংক্ষেপ: ব্যাংক খাত ঠিক হবে তো?। এর মূল চিত্র হলো— ব্যাংকের কাজ শুধু আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ করা নয়।
  • প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ: সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাও তার অন্যতম দায়িত্ব।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব: সামষ্টিক অর্থনীতি, মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অংশে প্রশ্ন ও ফোকাস রাইটিংয়ের জন্য এই তথ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা তথ্য ছক (Exam Fact Sheet)

হাই-ইল্ড ডেটা

প্রিলিমিনারি নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত রচনায় কোটেশনযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান

ক্ষেত্র / সূচকসুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যানপরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা / প্রধান পক্ষকর্তৃপক্ষ ও মূল পক্ষ
বাংলাদেশ ব্যাংক (কেন্দ্রীয় ব্যাংক)
সংবিধিবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার ও সুশাসন
সুনির্দিষ্ট উপাত্ত / পরিসংখ্যানউপাত্ত ও প্রধান সিদ্ধান্ত
বরাদ্দ / আর্থিক পরিমাণ: ৫৫৫ কোটি টাকা
বাজেট, অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত উপাত্ত
কার্যকর সময়কাল / আইনি ভিত্তিআইনি ভিত্তি ও পটভূমি
চলতি অর্থবছর ও সমসাময়িক পরিক্রমা
সরকারি নীতি কার্যকর ও বাস্তবায়ন সময়রেখা
বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কোণবিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা কোণ
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি ও বিসিএস অর্থনীতি পর্ব
পরীক্ষার খাতায় উচ্চ নম্বর নিশ্চিতকরণ প্রস্তুতি
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন: বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কিংবা ইংরেজি রচনায় (Essay) এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রতিষ্ঠান ও সাল ভূমিকা বা উপসংহারে উদ্ধৃতি (Quotation) হিসেবে জুড়ে দিলে খাতায় উচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
খবরাখবর বিশেষ একাডেমিক ফ্যাক্টশিট ও পরীক্ষা প্রস্তুতি সংকলন
সংবাদপত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন
ব্যাংক খাত ঠিক হবে তো?
উৎস: প্রথম আলো • বিভাগ: অর্থনীতি ও বাণিজ্য

ব্যাংকের কাজ শুধু আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ করা নয়। সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাও তার অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু ঋণের বড় অংশ অনাদায়ি হয়ে পড়লে ব্যাংকের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা দুর্বল হয়।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার চিত্র নয়, বরং পুরো অর্থায়নব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কসংকেত। প্রশ্ন হচ্ছে, এত গভীর সংকট থেকে ব্যাংক খাত নিজেকে কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে ব্যাংক খাতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি বা শ্রেণিকৃত।

এই পরিসংখ্যান ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান, ঋণ আদায়ের সক্ষমতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে সংকটের সমাধান খুঁজতে হলে শুধু খেলাপি ঋণের অঙ্ক নয়, এর পেছনের কারণ এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাবও বুঝতে হবে।

অনেক আগে থেকে শুরু হলেও বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে এস আলম, বেক্সিমকো ও নাসা গ্রুপের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে ঘিরে ঋণ বিতরণ, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক জবাবদিহি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রচলিত ঋণনীতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তদারকির নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব, পরিচালনা পর্ষদের দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ব্যাংকিং ব্যবসার ভিত্তি হলো ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে ঋণ দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে তা আদায় করা। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাবনা, নগদ প্রবাহ, জামানতের মান এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা করা জরুরি। এসবের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ গুরুত্ব পেলে ঋণঝুঁকি বাড়ে। ঋণের প্রকৃত অবস্থা সময়মতো প্রকাশ না করা হলে সেই ঝুঁকি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

তবে সংকটের দায় শুধু ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। ঋণ পর্যালোচনা ও অনুমোদনকারী কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদ, নিরীক্ষক এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকাও পর্যালোচনা করতে হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায় নির্ধারণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, অতীতের অনিয়মের জবাবদিহি না থাকলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা থেকে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে ১০টি ব্যাংকে কেন্দ্রীভূত ছিল খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। তালিকায় রয়েছে জনতা, অগ্রণী, আইএফআইসি, ন্যাশনাল, এবি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

ব্যাংকভেদে পরিস্থিতির পার্থক্যও উল্লেখযোগ্য। উল্লিখিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। জনতা ব্যাংকে খেলাপি ঋণের অনুপাত প্রায় ৭৫ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৯৭ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে ৯৬ শতাংশের কাছাকাছি।

এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো, সব ব্যাংকের সংকটের মাত্রা এক নয়। তাই সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের সমাধান কার্যকর হবে না। ব্যাংকভিত্তিক সম্পদের মান যাচাই, ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা নিরূপণ এবং ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিতে হবে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের মোট অঙ্ককে সম্ভাব্য চূড়ান্ত ক্ষতির সমান ধরে নেওয়া যাবে না; জামানত, গ্যারান্টি ও আদায়ের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হবে।

পাঠোত্তর প্রতিফলন ও সারসংক্ষেপ অনুশীলন (Active Recall)

প্রতিবেদনটি পড়া শেষ করার পর মূল ভাবটি নিজের ভাষায় ২-৩ বাক্যে লিখুন। এটি বিসিএস লিখিত ও ভর্তি পরীক্ষার ফোকাস রাইটিংয়ে আপনার নিজের ভাষায় উত্তর লেখার সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সরাসরি আপনার স্টাডি হাবে সংরক্ষিত হবে
সংরক্ষণ করতে লগইন করুন

পঠন মূল্যায়ন ও কুইজ (Active Recall Comprehension)

প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার বোধগম্যতা ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করুন

1টি প্রশ্ন
প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র:অনুচ্ছেদ ১ • মূল প্রেক্ষাপট

" ব্যাংকের কাজ শুধু আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ করা নয়।"

1. [অর্থনীতি ও বাণিজ্য ও সমকালীন পরিক্রমা] "ব্যাংক খাত ঠিক হবে তো?" প্রতিবেদনের আলোকে আলোচিত প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য, সিদ্ধান্ত বা প্রেক্ষাপট কোনটি?