Copyright: Any unauthorized use or reproduction of The Daily Star content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
মায়ের সঙ্গে মেয়ে এসেছিলেন। বাবার সঙ্গে ছেলে। স্বামী-স্ত্রীও এসেছিলেন। বন্ধু এসেছিল বন্ধুকে নিয়ে। সবার হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। সবাই এসেছিলেন মধ্যদিল্লিতে। জনসমাবেশের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ এলাকায়। তারা দলে দলে সমবেত হয়েছিলেন সমাবেশ না করার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই।
যদিও সমাবেশকারীদের বাধা দিতে দিল্লির রাজপথে ছিল পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। দেশটির জাতীয় পতাকাবাহী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা গেল পুলিশের ধস্তাধস্তি। চললো দেদারসে আটকও।
আটক ব্যক্তিদের অনেকে পুলিশ-ভ্যানের ভেতর থেকে চিৎকার করে প্রশ্ন রাখেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিষিদ্ধ হয় কীভাবে?’
বিক্ষোভ-সমাবেশে অংশগ্রহণকারী অনেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেছেন—দমনপীড়ণ করে সরকার কারও মুখ বন্ধ রাখতে পারবে না। তারা নিজ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘হেনস্তার’ বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসকদের নিপীড়ন-নির্যাতনের সঙ্গে বিজেপি-সরকারের তুলনাও টেনেছিলেন কেউ কেউ। তাদের ভাষায়: ‘ব্রিটিশ সরকার আমাদের পতাকাকে ভয় পেত। এখন বিজেপি সরকার আমাদের পতাকাকে ভয় পাচ্ছে।’
বিক্ষোভকারীদের অনেকের মুখে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে শোনা গেল।
তাদের মতে, এবারের স্বাধীনতা ‘স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা’ থেকে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে তারা ‘নিরপেক্ষ ব্যক্তি দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন’ ও ‘বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের’ দাবি জানান।
এ ছিল গত ১৬ অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের আশেপাশের একাংশের চিত্র। অন্য একটি অংশে ছিল—বিজেপিপন্থিদের সমাবেশ। সেখানে আওয়াজ উঠেছিল—‘মোদি,’ ‘মোদি’।


