প্রচ্ছদ/সম্পাদকীয় ও কলাম/আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন
সম্পাদকীয় ও কলামলক্ষ্য: আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন, বৈশ্বিক পুরস্কার ও সাধারণ জ্ঞান

গ্রামীণ নারীরাই গ্রামের প্রাণসঞ্জিবনী ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’

Copyright: Any unauthorized use or reproduction of The Daily Star content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to lega...

DS
The Daily Star•২৯ অক্টো, ২০২৬•বিস্তারিত প্রতিবেদন
৪ মিনিট পাঠ

শিক্ষণীয় মূল বিষয়বস্তু (Exam Key Takeaways)

  • মূল সারসংক্ষেপ: গ্রামীণ নারীরাই গ্রামের প্রাণসঞ্জিবনী ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’। এর মূল চিত্র হলো— কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস, ডিএনএ থাকে।
  • প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ: এই মাইটোকন্ড্রিয়াদের নিরবচ্ছিন্ন অবদানের কারণেই পরিবার, সমাজ ও গ্রামগুলো জীবন্ত থাকে।
  • শিক্ষণীয় অন্তর্দৃষ্টি: সমসাময়িক ঘটনাবলি ও বিশ্লেষণধর্মী মতামত রচনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিবেদনটি সমৃদ্ধ রেফারেন্স হিসেবে উপযোগী।

বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা তথ্য ছক (Exam Fact Sheet)

হাই-ইল্ড ডেটা

প্রিলিমিনারি নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত রচনায় কোটেশনযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান

ক্ষেত্র / সূচকসুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যানপরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা / প্রধান পক্ষকর্তৃপক্ষ ও মূল পক্ষ
জাতিসংঘ (United Nations)
সংবিধিবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার ও সুশাসন
সুনির্দিষ্ট উপাত্ত / পরিসংখ্যানউপাত্ত ও প্রধান সিদ্ধান্ত
সম্পাদকীয় ও কলাম বিষয়ক কাঠামোগত তথ্য ও সিদ্ধান্ত
সাধারণ জ্ঞান ও সমকালীন পর্যালোচনা
কার্যকর সময়কাল / আইনি ভিত্তিআইনি ভিত্তি ও পটভূমি
চলতি অর্থবছর ও সমসাময়িক পরিক্রমা
সরকারি নীতি কার্যকর ও বাস্তবায়ন সময়রেখা
বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কোণবিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা কোণ
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা
পরীক্ষার খাতায় উচ্চ নম্বর নিশ্চিতকরণ প্রস্তুতি
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন: বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কিংবা ইংরেজি রচনায় (Essay) এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রতিষ্ঠান ও সাল ভূমিকা বা উপসংহারে উদ্ধৃতি (Quotation) হিসেবে জুড়ে দিলে খাতায় উচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
খবরাখবর বিশেষ একাডেমিক ফ্যাক্টশিট ও পরীক্ষা প্রস্তুতি সংকলন
সংবাদপত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন
গ্রামীণ নারীরাই গ্রামের প্রাণসঞ্জিবনী ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’
উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা • বিভাগ: সম্পাদকীয় ও কলাম

Copyright: Any unauthorized use or reproduction of The Daily Star content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

মাছ, পাখি, ধান, শামুক, মৌমাছি কিংবা মানুষ—আমাদের শরীর লাখো কোটি কোষের এক একটি জীবন্ত বই। কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস, ডিএনএ থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ারাই শক্তি জুগিয়ে প্রতিটি প্রাণকে জীবন্ত রাখে। তাই একে কোষের শক্তিঘর বলে। প্রকৃতি ও মানুষের সমাজ নিয়ে একটি গ্রামকে যদি জীবন্ত বই ধরা হয়, তাহলে সেই গ্রামের নারীরা হলো তার মাইটোকন্ড্রিয়া—গ্রামের শক্তিঘর।

কৃষিকাজ, ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশন, ভেষজ চিকিৎসা, বীজ সংরক্ষণ, মাছ ও বুনো খাদ্য সংগ্রহ, প্রাণিসম্পদ পালন, সেলাই ও রন্ধন, কুটিরশিল্প, লোকসংস্কৃতি চর্চা, দুর্যোগ সামাল কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভেতর দিয়ে এই নারীরা বাঁচিয়ে রাখছেন গ্রামের পর গ্রাম। বাংলাদেশের প্রায় ৯০ হাজার গ্রামের প্রাণশক্তি গ্রামীণ নারীরাই। এই মাইটোকন্ড্রিয়াদের নিরবচ্ছিন্ন অবদানের কারণেই পরিবার, সমাজ ও গ্রামগুলো জীবন্ত থাকে। কিন্তু গ্রামীণ নারীর এই অবদান, জ্ঞান প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা অধিপতি কাঠামোতে বরাবরই অস্বীকৃত ও প্রান্তিক।

একটি কোষের ভেতর নিউক্লিয়ার ডিএনএ মূলত বংশগতির ভাণ্ডার। তবে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএও আমাদের বংশগতি বহন করে। কেবল মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএই লাখো বছর ধরে মাতৃসূত্রীয় ধারায় কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বংশ থেকে বংশে জীবন্ত রাখে। আর এই স্মৃতিস্বাক্ষ্য কেবলমাত্র নারীর মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএই বহন করে। প্রকৃতিজগতের মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরেও গ্রামীণ নারীরা সমাজের লোকায়ত জ্ঞানধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে চলেছেন। বিশেষ করে ফসলের জাত বাছাই ও বীজ নির্বাচন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ধাত্রীবিদ্যা, বয়ন ও রন্ধনশিল্প কিংবা ভেষজ চিকিৎসার মতো জটিল জ্ঞানচর্চা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এখনো সাবঅল্টার্ন গ্রামীণ নারীর ডিসকোর্স।

কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া রুগ্ন হলে বা ক্ষয়ে গেলে কোষ বিপদগ্রস্থ হয়, শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে গ্রামীণ নারীর বিপদ, সংকট, বঞ্চনা, বৈষম্য, নিপীড়ন, প্রান্তিকতা ও অপরায়নের ওপর নির্ভর করে কোনো গ্রামের নিরাপদ ও সুস্থ বিকাশ। শরীরকে বুঝতে হলে কোষ-বই পাঠ করতে হয়, সমাজ বুঝতে হলে গ্রামীণ নারীর অবদান ও আওয়াজকে পাঠ করা জরুরি।

২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালে প্রথম দিবসটি পালনের বৈশ্বিক চল শুরু হওয়ার পর থেকে ১৫ অক্টোবর কেবলমাত্র গ্রামীণ নারীর অবদানের স্মরণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং কৃষি, খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু ও সামগ্রিক উন্নয়নে গ্রামীণ নারীর অবদান ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি সামনে আনার এক বৈশ্বিক মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরে গ্রামীণ নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ নারীর উত্থান: বেইজিং +৩০ এর মাধ্যমে সহনশীল ভবিষ্যত নির্মাণ’। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রামে গ্রামে এই দিবসটি আয়োজন করে না। অথচ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গ্রাম বানিয়াচং বাংলাদেশেই। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। নারী ও শিশু কল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পল্লী অবকাঠামো স্ট্যান্ডিং কমিটি তো দিবসটি আয়োজন করতে পারে! গ্রামের সব শ্রেণি-পেশা-বর্গের নারীদের জমায়েত করতে পারে। গ্রামীণ উন্নয়নে তাদের অবদান ও বঞ্চনার গল্পগুলো শুনতে পারে। এখান থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ বাৎসরিক পরিকল্পনা ও বাজেট করতে পারে। আর গ্রাম থেকে উঠে আসা নারীদের শক্তিময় বয়ানেই তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ও ইনক্লুসিভ জাতীয় উন্নয়ন রূপরেখা।

২০২৬ সালকে জাতিসংঘ ‘আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে চলতি বছরে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক চারণভূমি ও পশুচারণজীবী বর্ষ’। আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং প্রতিদিন কর্মক্ষেত্র সংকোচন, মজুরিবৈষম্য, ঋণের চাপ ও জলবায়ু সংকটের কারণে গ্রামীণ নারীরা শহরে এসে ‘পরিচয়’ হারিয়ে ফেলছেন। গ্রামীণ ব্যবস্থার প্রতি চরমভাবে অমনোযোগী উন্নয়ননীতি এবং পুরুষতান্ত্রিক বলপ্রয়োগ সামগ্রিক উন্নয়নকে বাইনারি, উপনিবেশিক, বর্ণবাদী ও বৈষম্যের চশমা দিয়ে দেখে। সমাজ, রাষ্ট্র ও করপোরেট বৈষম্যের এই চশমা ভাঙতে হবে। অবদানের স্বীকৃতিসহ সামগ্রিক পরিসরে গ্রামীণ নারীর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পদে প্রবেশাধিকার ও মালিকানার অমীমাংসিত তর্ক

গ্রামীণ নারীর শ্রমকে অস্বীকার ও আড়াল করলে আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা কী টিকে থাকবে? বিশ্বে কর্মরত নারীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ গ্রামীণ কৃষি-ব্যবস্থায় জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার অনেক বেশি, প্রায় ৭১ শতাংশ (এফএও ২০২৩)। গ্রামীণ নারীরা শুধু বসতভিটা, কৃষিজমি, ঘের, চা-বাগান কিংবা খামারে কাজ করেন না; তাদের কর্মক্ষেত্র বহুমুখী ও বহুস্তরীয়। কিন্তু নিদারুণভাবে গ্রামীণ নারীর এই বহুমুখী শ্রম ও মেধার অবদান সর্বপরিসরে স্বীকৃত নয়।

পাঠোত্তর প্রতিফলন ও সারসংক্ষেপ অনুশীলন (Active Recall)

প্রতিবেদনটি পড়া শেষ করার পর মূল ভাবটি নিজের ভাষায় ২-৩ বাক্যে লিখুন। এটি বিসিএস লিখিত ও ভর্তি পরীক্ষার ফোকাস রাইটিংয়ে আপনার নিজের ভাষায় উত্তর লেখার সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সরাসরি আপনার স্টাডি হাবে সংরক্ষিত হবে
সংরক্ষণ করতে লগইন করুন

পঠন মূল্যায়ন ও কুইজ (Active Recall Comprehension)

প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার বোধগম্যতা ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করুন

PRO • FREE IN NOV1টি প্রশ্ন
প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র:অনুচ্ছেদ ১ • মূল প্রেক্ষাপট

" Copyright: Any unauthorized use or reproduction of The Daily Star content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action."

1. [স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণ] বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পল্লী অঞ্চলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার তৃণমূল স্তর কোনটি?