জাতীয় পরিক্রমালক্ষ্য: বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি

অভাবে থেমে যাননি মোন্নাফ, এইচএসসিতেও পেলেন জিপিএ–৫

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মোন্নাফ হোসেনের বাবা নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন। মা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়া।

প
প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়)•৩১ অক্টো, ২০২৬•বিস্তারিত প্রতিবেদন
৩ মিনিট পাঠ

শিক্ষণীয় মূল বিষয়বস্তু (Exam Key Takeaways)

  • মূল সারসংক্ষেপ: অভাবে থেমে যাননি মোন্নাফ, এইচএসসিতেও পেলেন জিপিএ–৫। এর মূল চিত্র হলো— বাবা নির্মাণশ্রমিক, মা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ে আয়ার কাজ করেন।
  • প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ: একমাত্র মেয়ে রিশা খাতুনকে এসএসসি পাস করার পর অভাবের কারণেই বিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব: শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, নির্বাচন ও সাংবিধানিক কাঠামো সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান ও লিখিত পরীক্ষার জন্য তথ্যটি সহায়ক।

বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা তথ্য ছক (Exam Fact Sheet)

হাই-ইল্ড ডেটা

প্রিলিমিনারি নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত রচনায় কোটেশনযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান

ক্ষেত্র / সূচকসুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যানপরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা / প্রধান পক্ষকর্তৃপক্ষ ও মূল পক্ষ
অভাবে সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজন
সংবিধিবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার, সুশাসন ও নির্বাহী কর্তৃত্ব
সুনির্দিষ্ট উপাত্ত / মূল সিদ্ধান্তউপাত্ত ও প্রধান সিদ্ধান্ত
অভাবে থেমে যাননি মোন্নাফ, এইচএসসিতেও পেলেন জিপিএ–৫ বাবা-মায়ের অভাবের সংসার
সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ ও নীতিগত সিদ্ধান্তের তথ্য
কার্যকর সময়কাল / আইনি ভিত্তিআইনি ভিত্তি ও পটভূমি
চলতি অর্থবছর ও সমসাময়িক পরিক্রমা
সরকারি নীতি কার্যকর ও জাতীয় বাস্তবায়ন সময়রেখা
বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কোণবিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষা কোণ
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত (জাতীয় পরিক্রমা)
পরীক্ষার খাতায় উচ্চ নম্বর নিশ্চিতকরণে উদ্ধৃতিযোগ্য তথ্য
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন: বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কিংবা ইংরেজি রচনায় (Essay) এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত, প্রতিষ্ঠান ও সাল ভূমিকা বা উপসংহারে উদ্ধৃতি (Quotation) হিসেবে জুড়ে দিলে খাতায় উচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
খবরাখবর বিশেষ একাডেমিক ফ্যাক্টশিট ও পরীক্ষা প্রস্তুতি সংকলন
সংবাদপত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখুন
অভাবে থেমে যাননি মোন্নাফ, এইচএসসিতেও পেলেন জিপিএ–৫
উৎস: প্রথম আলো (শীর্ষ সংবাদ ও জাতীয়) • বিভাগ: জাতীয় পরিক্রমা

বাবা-মায়ের অভাবের সংসার। বাবা নির্মাণশ্রমিক, মা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ে আয়ার কাজ করেন। কখনো বাবার কাজ থাকে, কখনো থাকে না। সংসারের এমন টানাপোড়েনের মধ্যেও থেমে থাকেনি ছেলের পড়াশোনা। বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে মাধ্যমিকের পর এবার উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মো. মোন্নাফ হোসেন।

আজ শনিবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হলে জানা যায় বিষয়টি। এইচএসসিতেও প্রত্যাশিত ফল পেয়ে মোন্নাফদের পরিবারের সবাই খুব খুশি। তাঁদের বাড়ি চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সিমলা গ্রামে।

মোন্নাফের স্বপ্ন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষিত হওয়া এবং বাবা-মায়ের সংসারের অভাব দূর করা। নিজের এ সাফল্যের পেছনে বাবা-মাকে কৃতিত্ব দিলেন মোন্নাফ হোসেন।

মোন্নাফ বলেন, ‘আমার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাঁদের কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে চাই। পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে পারব—এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

মোন্নাফ হোসেন চলতি বছর রায়গঞ্জ উপজেলার সরকারি বেগম নূরুণনাহার তর্কবাগীশ কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে উপজেলা সদরের ধানঘরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য এখন ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া।

মোন্নাফের বাবা-মায়ের সম্বল বলতে বসতবাড়ির চার শতাংশ জমি। তাঁরা কাজ করলে সংসার চলে, না করলে থমকে দাঁড়ায়। একমাত্র মেয়ে রিশা খাতুনকে এসএসসি পাস করার পর অভাবের কারণেই বিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। পরে অবশ্য মেয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মোন্নাফের ভালো ফলাফলে উচ্ছ্বসিত তাঁর বাবা–মা। যত কষ্টই হোক, ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা।

মোন্নাফের মা মিরা খাতুন বলেন, ‘ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করব—এটাই আমার স্বপ্ন। এনজিও অফিসে আয়ার কাজ করে মাসে মাত্র ছয় হাজার টাকা বেতন পেতাম। সংসারে অভাব-অনটন ও ঋণ রয়েছে। তারপরও নিজেদের প্রয়োজন কমিয়ে ছেলের পড়াশোনার পেছনে টাকা খরচ করেছি। ছেলের এই ফলাফলে আমাদের সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে।’

বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইমারত নির্মাণের কাজ সব সময় থাকে না। কোনো দিন কাজ পাই, আবার কোনো দিন বাড়িতে বসে থাকতে হয়। অভাবের সংসার হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন কখনো ছাড়িনি। ছেলে ভালো ফল করেছে, এতে আমরা অনেক খুশি।’

তবে দারিদ্র্য মোন্নাফের পড়াশোনার বাকি রাস্তায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় কি–না, সে আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বাকি পড়াশোনার খবচ নিয়ে চিন্তায় আছে পরিবারটি।

মোন্নাফ বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করতে পারিনি। তবুও চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো ভালো জায়গায় পড়ালেখার সুযোগ পেলে ভর্তি ও মাসিক খরচ জোগানো নিয়ে চিন্তায় আছি।’

মোন্নাফ কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী বলে জানান সরকারি বেগম নূরুণনাহার তর্কবাগীশ কলেজের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ের প্রভাষক মো. ময়নুল হক। তিনি বলেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া একটি পরিবারের মেধাবী ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ালেখা কীভাবে করবে তা ভাবনার বিষয়। তবে কোনো হৃদয়বান মানুষ যদি তার পাশে সহায়তার হাত এগিয়ে দেন তাহলে খুব ভালো হয়।

পাঠোত্তর প্রতিফলন ও সারসংক্ষেপ অনুশীলন (Active Recall)

প্রতিবেদনটি পড়া শেষ করার পর মূল ভাবটি নিজের ভাষায় ২-৩ বাক্যে লিখুন। এটি বিসিএস লিখিত ও ভর্তি পরীক্ষার ফোকাস রাইটিংয়ে আপনার নিজের ভাষায় উত্তর লেখার সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সরাসরি আপনার স্টাডি হাবে সংরক্ষিত হবে
সংরক্ষণ করতে লগইন করুন

পঠন মূল্যায়ন ও কুইজ (Active Recall Comprehension)

প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার বোধগম্যতা ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করুন

1টি প্রশ্ন
প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র:অনুচ্ছেদ ১ • মূল প্রেক্ষাপট

" বাবা-মায়ের অভাবের সংসার।"

1. [শিক্ষা ও জাতীয় মূল্যায়ন পদ্ধতি] উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের (HSC) পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত ও মেধা মূল্যায়নে বাংলাদেশে কোন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসৃত হয়?